ট্রুডোর অঙ্গীকারের প্রতি জলবায়ু বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থন

কানাডায় পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন তেল-গ্যাস উৎপাদকদের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের ট্রুডোর অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছে। লিবারেল নেতা জাস্টিন ট্রুডো জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে রোববার প্রথমবারের মতো বড় কোনো প্রতিশ্রুতি দিলেন।

ট্রুডো বলেন, নির্বাচিত হলে লিবারেল সরকার তেল ও গ্যাস উৎপাদন থেকে পাঁচ বছরে নিঃসরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য ২০৫০ সাল নাগাদ এ নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে আলবার্টা, সাস্কেচুয়ান, নিউফাউন্ডল্যান্ড ও ল্যাব্রাডরের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল কমিউনিটির মদ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ২০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের কথাও বলেছেন তিনি।

২০১২ সালে মিথেন নিঃসরণের পরিমাণ ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে তার তুলনায় ৭৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে। আগের ঘোষণার চেয়ে এ হার ৫০ শতাংশ বেশি। ট্রুডো বলেন, আসুন আমরা একটু বাস্তবানুগ হই। কানাডার মোট কার্বন নিঃসরনের এক-চতুর্থাশই করে তেল ও গ্যাস খাত। আমাদের প্রত্যাশা এইসব শিল্পের নেতৃত্ব দেশকে কার্বনমুক্ত করবে। এ কারণেই তেল ও গ্যাস নিঃসরণ যাতে না বাড়ে সেটা নিশ্চিত করতে চাই আমরা। সেই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি নিশ্চিত করে অর্জনযোগ্য মাইলস্টোন স্পর্শ করতে চাই।

ইলেক্ট্রিক ভেহিকলের বাধ্যবাধকতার বিষয়েও প্রতিশ্রুতির কথা শুনিয়েছে লিবারেলরা। সে অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ কানাডায় বিক্রিত ব্যক্তিগত বাড়ির অর্ধেক হতে হবে কার্বন নিঃসরণমুক্ত। ২০৩৫ সাল মোট গাড়ির শতভাগই কার্বন নিঃসরণমুক্ত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী আরও ৫০ হাজার চার্জিং স্টেশন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে লিবারেল পার্টি। এর মধ্যে ১৭ হাজার স্টেশন নির্মাণের কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

এনডিপি নেতা জাগমিত সিং জলবায়ু ইস্যুতে লিবারেলদের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে ফাঁকা প্রতিশ্রুতি বলে চিত্রায়িত করেছেন। তিনি বলেন, জি৭ দেশগুলোর মদ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করে কানাডা। কাজ না করলে জলবায়ু ইস্যুতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কোনো অর্থ নেই।

তবে সুনির্দিষ্ট কোনো দল বা প্রার্থীর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি কানাডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব পেট্রোলিয়াম প্রডিউসারসের একজন মুখপাত্র। জে অ্যাভেরিল নামে ওই মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, কানাডার অর্থনীতির স্তম্ভ হলো এখানকার গ্যাস ও তেল শিল্প। কানাডার অর্থনীতির স্বার্থেই এ ব্যাপারে যৌক্তিক নীতি প্রণয়ন পরবর্তী ফেডারেল সরকারের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে গত জুলাইয়ে জাতিসংঘে নতুন অঙ্গীকার করেছে ট্রুডোর সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমিয়ে আনার কথা বলেছে তারা। তবে ২০৩০ সাল নাগাদ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০০৫ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমানোর কথা জানিয়েছেন কনজার্ভেটিভ নেতা এরিন ও’টুল। সূত্রঃ বেঙ্গলি টাইমস। সম্পাদনা ম\হ। না ০৯০৫\১৩

Related Articles