ব্রেকিং

x

আজ মহাঅষ্টমী; আজ অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীর পূজা

রবিবার, ০৬ অক্টোবর ২০১৯

-->
আজ মহাঅষ্টমী; আজ অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীর পূজা
কুমারী পূজা, ফাইল ছবি

আজ রবিবার মহাষ্টমী। আজ কুমারী পূজা। দেবী পুরাণে কুমারী পূজার সুষ্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্র অনুসারে সাধারণত এক বছর থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। বয়স ভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন।

শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর প্রকাশ। কুমারী পূজার মাধ্যমে নারী জাতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতার বেলুড় মাঠে নয় কুমারীকে পূজা করেন। তখন থেকে প্রতি বছর দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে মহা ধুমধাম করে এই পূজার প্রথা চলে আসছে।


মহাঅষ্টমীতে ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। আছে সন্ধিপূজাও। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে আয়োজন করা হয়েছে কুমারী পূজা। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে অনেক আগেই।

মহাঅষ্টমীতে, মহাসপ্তমীর দিনের মতই আরতি, এরপর আলোচনা ও সঙ্গীতানুষ্ঠান চলবে। উৎসবের সঙ্গে মিল রেখে সবাই সাধ্যমতো পোশাক পড়ে আসেন প্রতিমার পায়ে অঞ্জলি দিতে। পরিবারের সকলের মঙ্গল কামনায় দেওয়া হয় ভোগ আর নৈবেদ্য। কাসার বাসনে ফুল, বেলপাতা, ধান, দুর্বাসহ ফলমূল দিয়ে সাজানো হয় মায়ের ভোগ।

গতকাল শনিবার সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, ষোল উপাদান আর ত্রিণয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় মহাসপ্তমী। চণ্ডি পাঠ, ঢাকের বোল, মন্ত্র, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি, অঞ্জলী, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ সব মিলিয়ে প্রতিটি মণ্ডপেই অন্যরকম পরিবেশ। বিশ্ব শান্তি ও সকলের মঙ্গল কামনায় উৎসবের দ্বিতীয় দিনে দশভূজা দেবীর কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন।

সন্ধ্যা নামতেই ঝলমলিয়ে ওঠে রাজধানীর গুলশান-বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ। কাকলি মোড় থেকে গুলনান দুই নম্বর মোড় পর্যন্ত পুরো সড়ক জুড়ে আলোজসজ্জা। মাঝে বনানী মাঠে দুর্গাপূজার আয়োজন। পুরো মাঠ জুড়ে বিশাল প্যাণ্ডেলে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। উত্তর পাশে মণ্ডপে প্রতিমা বসিয়ে সকাল-সন্ধ্যা পূজা ও আরতি চলছে। পশ্চিম পাশে মঞ্চে প্রতিদিন রাতে আলোচনাসভা ও গান বাজনার আয়োজন চলছে। দর্শকের সুবিধার্থে মাঠে ডিজিটাল ডিসপ্লেও বসানো হয়েছে। চারপাশে নানান স্টলে বই, পুস্তক ও খাবার-দাবারের আয়োজনের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান রয়েছে।

গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই দুর্গোৎসবের এবার দ্বাদশ বর্ষ পূর্তি হলো। তাই আয়োজনটা একটু বড়। প্রতিদিনই ভক্তদের পাশাপাশি মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে ভিআইপিদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। দ্বাদশ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার বাংলাদেশে সম্প্রীতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের ১২ জন বিশিষ্ট গুণী ব্যক্তিকে শারদীয় সম্প্রীতি সম্মাননা-১৪২৬ তুলে দেওয়া হয়েছে।

গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা উদযাপন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা জানান, স্পিকার ড, শিরীন শারমিন চৌধুরী শুক্রবার রাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মন্দির পরিদর্শনে যান। নানান অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভক্তদের জন্য প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতায় আছে।

এদিকে বনানী মাঠের মতো রাজধানীর অন্যান্য মন্দিরগুলোতেও ছিলো ভক্তদের ভিড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উৎসব আমাজে মাতোয়ারা ছিলো সকলেই। বনানীর পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ভিড় চোখে পড়ে ধানমন্ডি কলাবাগান মাঠ, উত্তরা মাঠ, বাসাবো বালুর মাঠ, ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মাঠ, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, পুরনো ঢাকার শাখারী বাজার, তাঁতী বাজার, রামকৃষ্ণ মিশন, রমনা কালী মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, জগন্নাথ হলের পূজোয়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে ভক্তদের আনাগোনা।

বাংলাদেশ সময়: ৮:২০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৬ অক্টোবর ২০১৯

যোগাযোগ২৪.কম |


আসামির জবানবন্দিতে আবরার হত্যার বীভৎস বর্ণনা

Development by: webnewsdesign.com