ব্রেকিং

x

আবারও আগুনের খেলা শুরু করছে সরকার: রিজভী

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২:১৫ অপরাহ্ণ


আবারও আগুনের খেলা শুরু করছে সরকার: রিজভী
নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছবিঃ সংগৃহীত

সম্প্রতি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলাকে পরিকল্পিত মিথ্যা মামলা আখ্যা দিয়ে বিএনপি বলছে, আগের মত আবার আগুনের খেলা শুরু করছে। অবৈধ সরকারের চারিদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে দেখে আবারো অস্থির হয়ে গেছে। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আবারো উদ্ভট, বানোয়াট, আজগুবি মামলার প্লাবন বইয়ে দিচ্ছে।

শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকারের মত পুলিশরাও এখন গায়েবী তথ্য উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে সিনিয়র নেতাদের নামে একের পর এক মামলা দিয়েই যাচ্ছে। মৃত ব্যক্তি, কারাবন্দি নেতাদেরও গায়েবী মামলার পাইকারী আসামী করা হচ্ছে।

নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, আবেদ রাজা, মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের তরিকুল ইসলাম, রাজু আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার বর্তমানে বিএনপির বিরুদ্ধে নতুন কোনো ইস্যু পাচ্ছে না। তাই আগেরমত আবার আগুনের খেলা শুরু করছে। ক্ষমতাসীন মধ্যরাতের ভোট ডাকাত সরকার গত বুধবার রাতে তাদের ‘খয়ের খাঁ’ পুলিশকে দিয়ে আমাদের ১৩৫ জন নেতাকে আসামী করে মোটরসাইকেল পোড়ানোর উদ্ভট দুই মামলা করেছে। অথচ হাইকোর্ট এলাকায় বেওয়ারিশ দুই মোটর সাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা।



বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ার জন্য সরকারের বিশেষ বাহিনীর পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ। ঘটনার পর ডিএমপি রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এসএম শামীম সাংবাদিকদের বলেছেন, কারা কী উদ্দেশ্যে গাড়িগুলোতে আগুন দিয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও মোটরসাইকেল তিনটির মালিকানা কেউ দাবি না করায় মনে হচ্ছে আগুনের ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক। ঘটনার পর এখনো বেওয়ারিশ মোটরসাইকেলগুলো মালিক খুঁজে পায়নি পুলিশ! অথচ মামলা হয়েছ ১৩৫ জন নেতার নামে। কি হাস্যকর মামলা যে, ৩টি মোটরসাইকেল পোড়াতে ১৩৫ নেতার প্রয়োজন পড়লো। সবাই এটা জানেন যে ছাত্রলীগ যুবলীগ আওয়ামী লীগের লোকজন এবং সরকারের বিশেষ বাহিনীর পরিকল্পিত একেকটি ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির নামে মামলা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের সামনে মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনায় ১৩৫ জনের মধ্যে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার বহুদিন ধরে জেলে। গত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ কারাগারে অথচ তাকেও আসামী করা হয়েছে। আসামী করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, জয়নাল আবেদিন, (খালেদার আইনজীবী), শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেউ বাকি নেই।

রিজভী সরকারের উদ্দেশে বলেন, এই সব করে লাভ নেই। এবার ক্ষমতা ছাড়ার জন্য প্রস্তুত হন। এই মামলা সুপরিকল্পিত এবং গায়েবী মামলা। এই সমস্ত ঘটনায় যে সরকারের লোকেরাই জড়িত সেটির অতীতে অনেক নজীর রয়েছে, তাদের লোকেরা সেটি স্বীকার করেছেন। পঙ্কজ দেবনাথ নিজেই যে তার নিজের বিহঙ্গ গাড়ী পুড়িয়েছেন সে কথা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মাইদুল ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গাড়ীতে আগুন ও মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনায় যুবলীগ নেতাকর্মীরা আটক হয়েছিলেন। এসব মানুষ ভুলে যায়নি। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতারা কিভাবে গাড়ী পুড়িয়েছে সেটি তারা নিজেরাই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে স্বীকার করেছে যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল।

নারায়ণগঞ্জে পেট্রোল বোমাসহ ধরা পড়েছিল যুবলীগের নেতারা। থানায় গাড়ী অক্ষত, গাড়ী পোড়ানোয় আসামী বিএনপি নেতারা, কবরে শায়িত লাশের নামে, হজ্ব পালনকারী ব্যক্তির নামে, হাসপাতালে শায়িত পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তির নামে, প্রবাসীর নামে গায়েবী মামলার মতোই এই মামলাটিও একটি গায়েবী মামলা। এসবই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রীর জামিন শুনানির আগের দিন হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বেষ্টিত ছিল এবং একধরণের সান্ধ্য আইন জারী ছিল, সেখানে মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোর ঘটনা তারা ছাড়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। এভাবেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে কব্জায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে সরকার টিকে আছে। আইন-আদালত, প্রশাসন, পুলিশ সবকিছুই শেখ হাসিনার হুকুমের দাসে পরিণত হয়েছে। উড়ো অবান্তর মিথ্যা প্রচারে পারঙ্গম শেখ হাসিনা। কারণ কারো বিরুদ্ধে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে নাশকতা করার সমস্ত ইন্সট্রুমেন্ট তার কাছেই আছে। এই কারণেই গতকাল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ আদালতে জামিন দেয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার বেগম জিয়াকে আদালতের জামিন না দেয়ার সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার ডিক্টেশনে, এটর্নি জেনারেল সেটি লিপিবদ্ধ করে আদালতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করেছেন।

রিজভী বলেন, সর্বোচ্চ আদালতে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গুরুতর অসুস্থ ৭৫ বছর বয়সী একজন মহিয়সী নারীকে জামিন না দেয়া সাম্প্রতিক কালের সেরা নিষ্ঠুরতা। এটি শুধু দেশের ইতিহাসে নয়, সারাবিশে^ এটি একটি নজীরবিহীন ঘটনা। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে গণতন্ত্রকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। গণতন্ত্রহীন দেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে গিয়ে এই দুর্বল সরকার নানা চুক্তির মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে ফেলেছে। দেশ বাঁচাতে, দেশের মানুষ বাঁচাতে, গণতন্ত্র পূণরুদ্ধার করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিবসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নামে অসত্য এবং সম্পূর্ণরুপে চক্রান্তমূলক বানোয়াট মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাঁদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি করছি।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ মিছিল থেকে পুলিশ নেতাকর্মীদেরকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনীভাবে গ্রেফতার এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। পুলিশ বিএনপি নেতা ফিরোজ আলম পাটোয়ারী, মোঃ আবু, মোঃ জুয়েল, মোঃ সিরাজ, মোঃ অব্বাস, মোঃ মন্টু, মোঃ রাজু, মোঃ মন্টু, মোঃ সজিব, মোঃ আঃ লতিফ, মোঃ রফিকুল ইমলাম, রফিকুল ইসলাম স্বপন, মোঃ জাফর, ছাত্রদল নেতা মোঃ কিরন, মোঃ রাসেল, মোঃ হযরত আলী, মোঃ সুমন, মোঃ ইব্রাহিম খলিলকে গ্রেফতার করেছে। আমি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তি দাবি ও আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।

বাংলাদেশ সময়: ২:১৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

যোগাযোগ২৪.কম |

Development by: webnewsdesign.com