ব্রেকিং

x

আমার আবরারকে আর মেরো না

মঙ্গলবার, ০৮ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:৩০ অপরাহ্ণ


আমার আবরারকে আর মেরো না
আবরারের লাশ গ্রামের বাড়িতে এসেছে। শোকে মুহ্যমান আবরারের মা ও ছোট ভাই। রায়ডাঙ্গা, কুমারখালী, কুষ্টিয়া, ৮ অক্টোবর। ছবি: সংগৃহীত

আমার সন্তানের হাতের যে জায়গাটা তোমাদের আঘাতে আঘাতে নীল হয়ে আছে জানো বাবারা? ঠিক ওখানটাতেই ওকে ধরে আমি স্কুলে নিয়ে যেতাম।

ঐ যে তোমাদের কিল ঘুষিতে ও অমন করে চোখ বন্ধ করে আছে,

বাবা তোমরা জানো, ও ঘুমুলেই আমি চোখে চুমু খেতাম, চাইতাম আরেকটু ঘুমিয়ে থাকুক কিন্তু তোমারা তো ওকে চিরতরে ঘুম পরিয়ে দিলে।

যখন আমার উদরে ঢিবঢিব করে উঠেছিল একটা প্রাণ দশমাস সে কী দূর্বিষহ যন্ত্রণা, তার পর কত নির্ঘুম রাত তবুও যখন ওর মুখটা দেখলাম সব কষ্ট কোথায় উড়ে গেলো!

নিহত আবরার ফাহাদ। ছবি: সংগৃহীত

আমার মনে ঘুরে বেড়াতো ঝলমলে সব স্বপ্ন। একদিন আমার ছেলেটা বিশ্বজয় করবে।



তোমারা বুঝি জানতে আমার স্বপ্ন?

তাইত মৃত্যু পরওয়ানা দিয়ে সারা দেশ জুড়ে জানিয়ে দিলে আমার সন্তানের নামটা?

মৃত্যুর সময় ওর কেমন লেগেছিল? পানি খেতে চেয়েছিল?

তোমারা কী কেউ ওর বুকের উপরে উঠেছিলে? ওর মাথায় বাড়ি দিয়েছিলে রড দিয়ে?

আহা বাবা যদি একবার জানতাম বলতাম আমায় টুকরো টুকরো করে ফেল; কিন্তু আমার মানিককে আর মেরো না!

ছোট্ট ছেলেটা আমার অন্ধকার বড্ড ভয় পেত…

যদি এতটুকু করুনা হত তোমাদের যদি তোমরা মানুষ হতে…

বলতাম, মেরো না.. আর মেরো না

ঐ গালে আমার অনেক চুমু, ঐ মুখে আমি কত নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছি,

ঐ পিঠে সাবান দিয়ে গোসল করিয়েছি আমি, কত জড়িয়ে ধরেছি বুকে…

মরে যাচ্ছে আমার ছেলেটা

বাবারা দোহাই লাগে- আর মেরো না.. মেরো না…

 

লিখাঃ

সানজিদা আয়েশা সিফা

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৮ অক্টোবর ২০১৯

যোগাযোগ২৪.কম |

আসামির জবানবন্দিতে আবরার হত্যার বীভৎস বর্ণনা

Development by: Jogajog Media Inc.

বাংলা বাংলা English English