বুধবার, নভেম্বর ২৫, ২০২০
Home প্রবাস জীবন আমি অবাক আমি অচেতন আমি সচেতন

আমি অবাক আমি অচেতন আমি সচেতন

- Advertisement -

ওষুধ কোম্পানির মধ্যে ফাইজার ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং শ্রেষ্ঠ।বহু বছর এ কোম্পানিতে চাকরি করেছি এবং প্রতি বছর কম্পানির বাজেট তৈরিতে জড়িত ছিলাম।

সুইডেনের সংসদে জাতীয় বাজেট পাশের ধারাবাহিকতা টিভিতে ফলো করি। আমার পারিবারিক বাজেটও করে থাকি। কোম্পানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের প্রাক্কলিত বাজেট বিশেষ করে অতীতের ঘটে যাওয়া ঘটনা বা বছরের আয় ব্যয়, উন্নয়ন পরিকল্পনা কেমন ছিল এবং কেমন হয়েছে এসব বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা হয়।

প্রতিটি বিভাগের চাহিদা একত্রিত করে সবার মতামত অনুযায়ী বাজেট অনুমোদন করা হয়ে থাকে।

সুইডেনের জাতীয় বাজেটের ওপর আলোচনা পর্যালোচনা হয়। কোন খাতে কত টাকা অনুমোদিত হলো এবং কেনো হলো ইত্যাদি বিষয়ে সুইডিশ সংসদে সবাই মিলে প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনা পর্যালোচনা করার পরে সেটা অনুমোদন করে।

আমরা টিভিতে বা খবরের কাগজে বাজেটের ওপর বর্ণনার ধারাবাহিকতা দেখে থাকি। সংসদ স্পিকার সাধারণত সময় নির্ধারণ করে থাকেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা তাদের মতামত দিয়ে থাকেন। জনগণ যখন দেখে যে সংসদে সুষ্ঠ পরিবেশে সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে স্বাভাবিক ভাবেই দেশের সংসদ সদস্যদের ওপর তখন আস্থা বেড়ে যায়। জনগণ স্বস্তি অনুভব করে এবং গর্বিত হয় দেখে যে তার গুরুত্বপূর্ণ ভোট সে একজন দায়ীত্বশীল নাগরিককে দিয়েছে এবং সে দায়ীত্বশীল সংসদ সদস্য তার দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করছে।

এমনটিই হওয়ার কথা একটি সৃজনশীল সমাজ এবং গনতন্ত্রের সংসদে। আমি বেশ কিউরিয়াস ছিলাম বাংলাদেশের সংসদে কি হয় বা তারা কিভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে তা জানার জন্য। হঠাৎ ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংসদের বাজেট বিষয়ক অধিবেশনের কার্যক্রম দেখার সৌভাগ্য হলো। বেশির ভাগ সংসদ সদস্য ৯ মিনিট সময় পেয়েছে বাজেটের ওপর মন্তব্য করতে কিন্তু তার কিছুই শোনার ভাগ্য হলোনা আমার। প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম দেখে, বিশ্বাস করতে এবং মেনে নিতে।

দেখি কেউ গানের সুরে, কেউ বিপক্ষের দলগুলোকে গালিগালাজের মাধ্যমে, কেউ কবিতার সুরে, কেউ বেসুরে, কেউ তেল মেরে, কেউ পুরো সময় ব্যয় করছে প্রশংসামূলক কথা বলে।

মজার ব্যপার হলো সবাই ৯ মিনিট পার করে পরে অতিরিক্ত ১, ২ বা ৩ মিনিট সময় বাড়ানোর জন্য স্পিকারকে অনুরোধ করছে। ভাবলাম এবার তাঁরা কিছু বলবেন বাজেট সম্পর্কে। ওমা! দেখি সেই অতিরিক্ত সময় ব্যয় করল গালাগালি এবং বিপক্ষের নিন্দা করে। কেউ কেউ আবার গানের মাধ্যমে সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিধায় মাননীয় স্পিকার নিজ থেকেই ১ মিনিট সময় বাড়িয়ে দিলেন যাতে তিনি গানের বাকি অংশটি শেষ করতে পারেন। সব কিছু দেখে মনে হলো ঠিকই তো আছে। বৃক্ষ তোমার নাম কি?

ফলে পরিচয়! সংসদ ভবনের কীর্তিকলাপ দেখে বুঝতে অসুবিধা হয়নি দেশের অবস্থা। সংসদ ভবনে যা দেখলাম তাতে বিশ্বাস করার মতো চিন্তাই আসে না যে দেশের উন্নতির পেছনে ওনাদের কোন অবদান থাকতে পারে। জনগণের ভোটে পাশ করে কেউ সংসদে বসে গান গাইতে বা গান শুনতে পারে তা এর আগে কখনো দেখিনি।

বাংলাদেশের সাধারণ মেহনতি মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং ভক্তি আরো বেড়ে গেলো কারণ তাঁরা যদি সংসদ ভবনে মাননীয় সংসদ সদস্যের মতো আচরণ করতে শুরু করতো তবে দেশতো রসাতলে যেত এতদিনে। দেশের সাধারণ মানুষ অসাধারণ দায়িত্ব কর্তব্য পালন করছে যার জন্য বাংলাদেশ টিকে আছে এখনও। বর্তমানে দেশে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে খুন, দূর্নীতি, ঘুষ, ধর্ষণ। ধর্ষকের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না শিশু-বৃদ্ধা এমনকি প্রতিবন্ধী নারীরা পর্যন্ত।

চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশু ধর্ষণ হচ্ছে। শুধু ধর্ষণেই শেষ নয় এরপর নির্মম নির্যাতন এবং চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয়া কিংবা আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে। কথা উঠছে এসব বড় বড় দূর্নীতিবাজ, অর্থ পাচারকারি এবং খুনিদের সহযোগিতায় পুলিশ এবং রাজনৈতিক প্রভাব শালিরা জড়িত। চারদিকে প্রশ্ন, কেন এদের মৃত্যুদন্ড দেয়া হচ্ছে না?

এখন যদি এসব ক্রিমিনালদের ঘটনার সত্য জানার আগেই গুলি করে হত্যা করা হয় তা হলে সমস্যার সমাধান হবে কি? সনাক্ত করা যাবে কি সত্যিকারের রাঘব বোয়ালদের বা গডফাদারদের? তা যদি না যায় তাহলে তো আবারও নয়ন বন্ডের মত শত শত সন্ত্রাসীর জন্ম হবে দেশে! এসব ঘটনা দুশ্চিন্তাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

সব কিছু মিলিয়ে এখন দুশ্চিন্তাই যেন জীবনে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা আমাদের মনকে অশান্ত করছে। আমরা কোন জগতে বসবাস করছি? এখনো কী করে আমরা সহজভাবে চলছি, কথা বলছি? এখন সংসদে যদি গান বাজনা বা শুধু পরনিন্দাই চলতে থাকে তবে সচেতন জাতি দিনে দিনে অসচেতন হতে থাকবে। বিরোধী দলকে গালিগালাজ বা প্রসংশায় পঞ্চমুখ হয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে তেল না দিয়ে বরং সংসদ সদস্যদের সচেতন হতে হবে।

জীবনযুদ্ধে বিশুদ্ধভাবে চলার জন্য প্রয়োজন সচেতনতার। নিজের দেশ, পরিবেশ, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি, অনিয়ম-অসংগতি, সৎ আদর্শ, সৎ নীতি সব ব্যাপারেই প্রয়োজন সচেতনতার। প্রয়োজন কর্মক্ষেত্রের সর্বক্ষেত্রে সবার সৎ এবং সততা নিয়ে চলা। তাহলে দেশ ও জাতি দুশ্চিন্তায় হাবুডুবু খাবে না। – Imagine all the people living for worthy life, Imagine all the people living life in peace and love. হাত জোড় করি মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলআমিনের দরবারে তিনি যেন সংসদ সদস্যদের দেশ, দেশের পরিবেশ এবং দেশের মানুষের কল্যানের ওপর কাজ করার তৌফিক দান করেন।

সর্বশেষ

গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। আজ বুধবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও...

সব শ্রেণিতেই ভর্তি এবার লটারিতে

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন।ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ‘ক্যাচমেন্ট...

লটারির মাধ্যমে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

প্রতি শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এ তথ্য দিয়েছেন। আজ বুধবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন এ কথা জানান তিনি। জানা...

২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পেছাচ্ছে

আগামী ২০২১ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা দুই মাস পেছাতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। আজ (২৫ নভেম্বর) সরকারি ও বেসরকারি...