সোমবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২১
Home প্রধান খবর এরশাদের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দিনহাটা

এরশাদের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দিনহাটা

যোগাযোগ ডেস্কঃ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকস্তব্ধ পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার দিনহাটা। দেশভাগের আগে এই শহরে ছোটবেলা কেটেছিল তার। 

দিনহাটা স্কুলের ছাত্র ছিলেন এরশাদ। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন সেখানে। এরপর ১৯৪৬ সালে রংপুরে কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হন।

দেশভাগের পর কোচবিহার ভারতে যুক্ত হলে এরশাদের বাবা মুহম্মদ মকবুল হোসেন দিনহাটার পৈত্রিক ভিটে ছেড়ে চলে যান পাকাপাকিভাবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে।

এরশাদের জীবিত একমাত্র বাল্যবন্ধু সুধীর সাহা। সমকালকে এদিন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, সকালে ওর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে খুব খারাপ লাগছে। আমি ছিলাম ওর (এরশাদ) সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। দেশ ছেড়ে চলে গেলেও নিয়মিত আমায় চিঠি লিখত। ফোন করে কথা বলতো। ২০১৭ সালে ও দিনহাটায় এলো। আমি এরশাদকে আনতে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে গিয়েছিলাম। আমাকে দেখে বুকে জড়িয়ে ধরে বললো, ‘তোর জন্যই দিনহাটায় এলাম।’ পরের দিন অনেক উপহার নিয়ে আমার বাড়িতে এসেছিল। আমরা ছোটবেলার গল্প করেছিলাম।

তিনি বলেন, আমরা একসঙ্গে দিনহাটা হাইস্কুলে পড়তাম। একবার লুকিয়ে পুটিমারি বলে একটা বাগানে কুল চুরি করতে গিয়েছিলাম। সেটা জানতে পেরে মকবুল কাকা (এরশাদের বাবা) আমাদের দুজনকে খুব শাসন করেছিলেন। খুব ভাল ফুটবল খেলত এরশাদ। ফরওয়ার্ড আর  গোলকিপার দুটোতেই ভালো খেলত। আমার থেকে দুই বছরের ছোট হলেও এরশাদ ছিল আমার একমাত্র প্রিয় বন্ধু।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতির দিনহাটার বাড়িতে এখন থাকেন তার চাচাতো ভাই মোসাব্বর হোসেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোচবিহার জেলা আইনজীবীর পদ থেকে অবসরপ্রাপ্ত।

তিনি বলেন, আমাদের পরিবারের প্রধান চলে গেলেন। উনি সারাবিশ্বে আমাদের বংশের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়ে। ছোটবেলায় খুব দুরন্ত ছিলেন। ডাকনাম ছিল পেয়ারা। এই নামেই দিনহাটার সবাই তাকে চেনে।

দাদার জন্ম অবিভক্ত রংপুরের কুড়িগ্রামে মামার বাড়িতে। জন্মের পর দাদাকে নিয়ে মকবুল জ্যাঠা চলে আসেন দিনহাটায়। আজ আমাদের কাঁদিয়ে চলে গেলেন। আল্লা উনার বেহস্ত নসীব করুন। আমার ছেলে আহসান হাবিব উনার প্রয়াণের খবর পেয়ে আজ সকালেই বাংলাদেশ গেছে।

এরশাদের পাশের বাড়িতে থাকেন সাবেক ছিটমহল আন্দোলনের নেতা ও বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির রাজ্যনেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, ছিটমহল বিনিময়ের আন্দোলনে উনার ভূমিকা অতুলনীয়। সবসময় উনি আমায় ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ দিতেন। উনার প্রয়াণে দেশভাগের আরও একটা স্মৃতি মুছে গেল।

দীপ্তিমান বলেন, উনার বাবা মকবুল হোসেন ছিলেন কোচবিহারের রাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপবাহাদুরের অ্যাডভোকেট। আর আমার দাদু  ধীরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ছিলেন রাজার কবিরাজ। দিনহাটা শহরের ফুলদীঘির ডানদিকে উনার বাড়ি আর বামদিকে আমাদের বাড়ি। দিনহাটার প্রাচীনতম পাওনিয়ার ক্লাবের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এরশাদ চাচা। যা তৎকালীন সময়ে রাজার ক্লাব বলে পরিচিত ছিল। উনার প্রয়াণে আজ দিনহাটা শোকস্তব্ধ।

সর্বশেষ

বাংলাদেশের চেয়ে ধর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটে যুক্তরাষ্ট্রে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অ্যামেরিকায়, বাংলাদেশের চেয়ে ধর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটলেও খবরের শিরোনাম হয় বাংলাদেশ। আজ রোববার(২৪ জানুয়ারি) বিকেলে আমেরিকার চেম্বার অ্যামচাম আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েএকথা বলেন...

মানুষকে সুশৃঙ্খল করে নামাজ

আল্লাহতায়ালার আনুগত্যের সর্বোত্তম নিদর্শন নামাজ। একজন মুসলিমের জন্য ঈমান আনার পর, ঈমানের দাবিতে সত্যবাদী হওয়ার প্রমাণ হলো- নামাজ। নামাজই একজন মুসলিম ও অমুসলিমের মাঝে...

ব্যায়াম নাকি ডায়েট, ওজন হ্রাসে ভালো কোনটি ?

ব্যায়াম এবং ডায়েট; ওজন হ্রাস করার দুটি ভিত্তি। ডায়েট এবং ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানো অনেকটা স্বপ্নের মতই ব্যাপার। তবে এই দুই পদ্ধতির মধ্যে ওজন...

বর্তমান পরিস্থিতিতে বেড়াতে গেলে যা করণীয়

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে গোটা বিশ্বেই জীবনযাত্রা পরিবর্তিত হয়েছে। উৎসব, আয়োজনের পাশাপাশি অনেকেই এ কারণে বিভিন্ন জায়গায় বেড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। তবে বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাসের...