জাস্টিন ট্রুডোর হাতেই কি আবার শোভা পাবে প্রধানমন্ত্রীর পতাকা ?

বৃহস্পতিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জাস্টিন ট্রুডোর হাতেই কি আবার শোভা পাবে প্রধানমন্ত্রীর পতাকা ?

আগামী ২১ অক্টোবর কানাডায় কেন্দ্রীয় সরকারের নির্বাচন। সেই নির্বাচনী হাওয়া এখন সর্বত্রই। সবার মুখে মুখে একই প্রশ্ন- কে হবেন প্রধানমন্ত্রী, কোন দল গঠন করবে সরকার?

পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, লিবারেল পার্টি আবারো সরকার গঠন করবে। যদিও অন্টারিওতে পার্লামেন্ট নির্বাচনে লিবারেলের ভরাডুবি হয়েছে। তাতে মনে হয়েছিলো- এই প্রাদেশিক নির্বাচনের প্রভাব পড়বে কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচনে। কিন্তু সেই কুয়াশা কেটে এখন নির্বাচনীর পূবাকাশে নতুন সূর্যের ঝলমলানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেজন্যই অনুমেয়, লিবারেলই বিজয়ের পতাকা উড়াবে। তার একাধিক কারণও আছে বলে আমার বিশ্বাস।

গত ফেডারেল নির্বাচনে কঞ্জারভেটিভ পার্টির হেরে যাবার কারণও ছিলোও একাধিক।

প্রথমত, হারপারের দীর্ঘ সময় শাসনে জনগণ পরিবর্তন প্রত্যাশা করছিলো।

দ্বিতীয়ত, অনেক দিন একই দল বা একই ব্যক্তি ক্ষমতায় থাকলে কিছুটা ‘স্বৈরশাসন’ ভাব চলে আসে। সেজন্য হারপার সরকার বেশ ক’টি ইনিগ্রেশন বিরোধী বিল পাস করেছিলো। তার মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণীর আইন অন্যতম। কনজারভেটিভ পার্টি কখনোই অভিবাসী বান্ধব রাজনৈতিক দল নয়। তা আরও দিবালোকের মতো সত্য প্রমাণিত হলো- বর্তমান ডাগ ফোর্ডের অন্টারিও সরকারে কোনো ইমিগ্রেশন মন্ত্রণালয় এবং ইমিগ্রেশন মন্ত্রী রাখেননি। তাদের এই শ্বেতাঙ্গ মনোভাব ইতোমধ্যে ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আসছে ফেডারেল নির্বাচনে যার সুফল পাবে লিবারেল পার্টি।

যদি আমরা প্রাদেশিক নির্বাচনের দিকে ফিরে তাকাই, তাহলে দেখাবো- লিবারেল পার্টি অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে যেনো ১১ গোল খেয়ে গো-হারা হেরে যায়। শুধু হেরেই যায়নি, সংসদে তৃতীয় দল হবার জন্য আটটি আসন দরকার হয়, তা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। ভরাডুবি অনুমান করতে পেরে প্রিমিয়ার ক্যাথলিন ওয়েন নির্বাচনের আগেই পরাজয় বরণ করে নিয়েছিলেন এবং নির্বাচনের পর দলের নেতৃত্ব থেকেও পদত্যাগ করেছিলেন। উল্লেখ্য, ১৮৬৭ সাল থেকে প্রদেশিক সরকার শুরু করে। সেই প্রক্ষিতে উক্ত সালের ১৬ জুলাই অন্টারিও’র প্রথম প্রিমিয়ার নির্বাচত হন জন সান্ডফিল্ড মেকডোনাল আর সর্ব প্রথম নারী প্রিমিয়ার এবং সর্বশেষ বর্তমান প্রিমিয়ার ক্যাথলিন। এই নারী, দলকে প্রায় নিঃস্বই করে চলে গেলেন। ফলে অন্টারিওতে টানা ১৫ বছর পর লিবারেল পার্টির শাসনের অবসান ঘটলো। এই পরাজয় থেকে হয়তো লিবারেল শিক্ষা নিয়ে আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

আগেই উল্লেখ করেছি, বিগত হারপার সরকারের বেশ কিছু বিতর্কিত বিল যা অভিবাসী-বিরোধী ছিলো; তা গত নির্বাচনের ফলাফলে বুঝা যায়। আধুনিক নাগরিক কখনোই প্রতিক্রিয়াশীলদের পছন্দ করে না। সে ক্ষেত্রে লিবারেলের প্রগতিশীল মনোভাব ভোটারদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া, কানাডার ইতিহাসে জাস্টিনের মতো জনপ্রিয় অন্যান্য প্রধানমন্ত্রীসহ তাঁর বাবা পিয়ারে ট্রুডোও ছিলেননা। রাজনৈতিক ভাবে বাদ দিলেও জাস্টিনের ব্যক্তিগত গুণাবলিও শুধু কানাডাবাসীদের মধ্যে নয়; বিশ্ববাসীদেরও নজর কেড়েছে।

যদিও তাঁর এবং তাঁর সরকারের কিছু কিছু নেতিবাচক বিষয় সর্ব মহলে সমালোচিত হচ্ছে।

বিভিন্ন জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দুই দল কনজারভেটিভ আর লিবারেলের জনপ্রিয়তার দাঁড়িপাল্লা উঠানামা করছে আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনডিপি।

তবে শেষ পর্যন্ত চির প্রতিদ্বন্দী কনজারভেটিভ আর লিবারেলের পাল্লাই ভারী হবে। এন্ড্রু শিয়র নয়; জাস্টিন ট্রুডোর হাতেই আবারও শোভা পাবে প্রধানমন্ত্রীর পতাকা। একথা প্রমাণ হবে আগামী ২১ শে অক্টোবর।

বাংলাদেশ সময়: রাত ১:১১ | বৃহস্পতিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

যোগাযোগ২৪.কম |

Development by: webnewsdesign.com