রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১
Home বাংলাদেশ জেলার খবর ঠাকুরগাঁওয়ে ডাক্তারসহ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১০

ঠাকুরগাঁওয়ে ডাক্তারসহ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১০

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

ঠাকুরগাঁওয়ে ডাক্তারসহ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে এখন পর্যন্ত ১০ জন। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক হাসপাতাল অপরিচ্ছন্ন হওয়ার কারণে চিকিৎসারত ডেঙ্গু রোগীরাসহ অন্যান্য রোগীদের ক্ষোভের শেষ নেই।

হাসপাতালের সূত্র মতে, গত ৭দিন থেকে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন রোগী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও সূর্যের হাসি ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ডা. রেদওয়ানা রমজান রিংপ্পী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে শহরের একটি বেসকারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) পর্যন্ত ৭ দিনে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৯ জন রোগী। তাদের মধ্যে এখনো ৬ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ৪ জন রোগী ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ২ জন রোগী ভর্তি আছেন। বাকি ৩ জন রোগী আশংঙ্কা মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানা যায়।

পীরগঞ্জ থানার আরাজী লষ্কড়া গ্রামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলামিক ইস্ট্যাডিস বিভাগের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী শাহীনা আক্তার (১৯), সদর উপজেলার রুহিয়া থানার পাটিয়াডাঙ্গী গ্রামের ঢাকা ডেফডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমি আক্তার (২৪), সদর উপজেলা মুজাবর্ণী সেন পাড়া গ্রামের ঢাকা নারায়নগঞ্জের রোলিং মিলের শ্রমিক আব্দুস সামাদ (৩২), সদর উপজেলার রহিমান পুর গ্রামের বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলের আনসার সদস্য রানা (৩২), পঞ্চগড় আটোয়ারী থানার নরপুকুরি গ্রামের ঢাকা টঙ্গী নর্দান গার্মেন্টসের শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম (২০) ও পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর গ্রামের ঢাকা টঙ্গী নর্দান গার্মেন্টসের শ্রমিক পাইলট ইসলাম (২০)।

হাসপাতালে চিকিৎসারত ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে শাহীনা আক্তার জানান, ডেঙ্গু রোগের যাবতীয় পরীক্ষা গুলো হাসপাতালেই করার কথা কিন্তু এখন ২৬ নাম্বার কক্ষে গিয়ে দেখা যায় কক্ষটি তালা বদ্ধ। কক্ষটি বন্ধ থাকায় এখন পর্যন্ত আমি কোন পরীক্ষা করাইতে পারি নাই।

অন্যদিকে সুমি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের অন্যান্য কিছু ভালো থাকলেও বাথরুমের অবস্থা খুবই খারাপ, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীদের তরল জাতীয় খাবার খেতে বলা হয়েছে কিন্তু এই তরল জাতীয় খাবার খেয়ে ঘন ঘন ওয়াশ রুমে যাওয়া লাগে কিন্তু এখানকার ওয়াশ রুম বা বাথরুম গুলো এতোই খারাপ যে সেখানে যাওয়ার কোন অবস্থায় নেই।
এমনি অভিযোগ হাসপাতালে চিকিৎসারত অন্যান্য রোগীদেরও।

অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তোজাম্মেল হক বলেন, এপর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিয়েছে তারা সকলেই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছে। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে এসে. ডা. রেদওয়ানা রমজান রিংপ্পী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত যারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন তারা অনেকটাই আশংঙ্কা মুক্তই বলা চলে। আমরা প্রতিদিনি ডেঙ্গু রোগী পাচ্ছি হাসপাতালে যাদের অবস্থা আশংঙ্কাজনক শুধু তাদেরই আমরা হাসপাতালে ভর্তি করাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগী দেখে ডেঙ্গু রোখে আক্রান্ত সঠিক রোগীর সংখ্যা বলা যাবে না। আমরা এই পর্যন্ত হাসপাতালে ৩ জন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. কর্মরত আছি। দেখা গেছে যে প্রাইভেট চেম্বার ও আউটডোর মিলে প্রায় ৩০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। ঠাকুরগাঁওয়ের যে এডিস মশা গুলো ডেঙ্গুতে ইফেকক্টেড তা নয় তবে পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় ঢাকা থেকে যে মানুষগুলো ঠাকুরগাঁওয়ে আসছে তার সংখ্যা প্রায় ২০-৩০ হাজার হবে তার মধ্যে হয়তো দেখা যাবে এতে প্রায় দের থেকে দুই হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে আসবে। এখানে যখন বিপুল সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী অবস্থান করবে তখন চিকিৎসা ব্যবস্থায় দূরাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।

এবিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত ২৩ জুলাই থেকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তেই আছে। এর আগে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগের পর্যাপ্ত পরিমাণে চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকলেও ৩০ জুলাই থেকে ডেঙ্গু রোগের যাবতীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে ডেঙ্গু রোগীদের যাবতীয় পরীক্ষাসহ ঔষধ পর্যন্ত ফ্রী তে দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যারা ঢাকা থেকে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ রাস্তা পারি দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন তাদের জন্য দীর্ঘ জার্নি করা মোটেও উচিত নয় কারণ ডেঙ্গু নিয়ে গাড়িতে বা অন্যান্য যানবাহনে দীর্ঘ পথ পারি দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকায় ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার খরচ ব্যয়বহুল, ও ঢাকায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমসীম খাচ্ছে হাসপাতাল গুলো। তারা সহসায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি নিচ্ছে না। তাই আমরা অর্থের অভাবে ও নিরুপায় হয়ে গ্রামে ফিরে আসছি।

এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের ফিরোজ কবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে গত শুক্রবার (২৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফিরোজ কবির মারা যায়। তার মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে ও এলাকার মানুষ ডেঙ্গুর আতঙ্কে বসবাস করছে।

স্থানীয়রা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় প্রশাসনকে এডিস মশা নিধনের কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানান ও সেই সাথে সকলকে সচেতনতা অবলম্বন করতে বলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম মঙ্গলবার (৩০ জুূলাই) দুপুরে সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীদের দেখতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেঙ্গু রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদান করা সহ নিবীর পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

মোঃ জাহিদ হাসান মিলু,
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

সর্বশেষ

নবীগঞ্জে প্রেমের টানে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এক যুবতীর, অতপর বিয়ে

নবীগঞ্জ পৌর এলাকায় প্রেমের টানে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম ছেলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তমা দেব নামে এক...

নওগাঁয় গ্রাম আদালত আইন ও নারী বান্ধব গ্রাম সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে অবহিতকরন সভা অনুষ্ঠিত

নওগাঁ জেলায় ৬টি উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়নে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করন ২য় পর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্প শুরু ২০১৭ সালের জুলঅই থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত...

কী ছিলো হৃতিককে পাঠানো কঙ্গনার শতাধিক মেইলে!

হৃতিক রোশন আর কঙ্গনা রনৌতের বিবাদের যেন কোনো শেষ নেই। সেই যে ২০১৬ সাল থেকে শুরু, এখনো থামার নাম নেই। বেশ কিছু বছর ধরে...

ময়মনসিংহে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত এক 

ময়মনসিংহের ত্রিশালে চোর সন্দেহে বিল্লাল হোসেন (৩৪) নামের এক ব্যক্তি জনতার হাতে গণপিটুনিতে নিহত হয়। জানা যায়, শনিবার উপজেলার নারায়নপুর এলাকায় সকালে মোবাইল চুরির ঘটনাকে...