ব্রেকিং

x

তবে কি বাংলাদেশের টপ টেরর জয়ই কানাডার স্বনামধন্য ব্যবসায়ী রানা?

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৬:৫১ অপরাহ্ণ


তবে কি বাংলাদেশের টপ টেরর জয়ই কানাডার স্বনামধন্য ব্যবসায়ী রানা?
ডানে বর্তমানে কানাডায় বসবাসরত তারেক রানা, বামে বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী জয়, ছবিঃ সংগৃহীত

বছর পাঁচেক আগে কানাডায় পাড়ি জমান তারেক রানা। সেখানে গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশি কোনো সময় নষ্ট করেননি তিনি। টরোন্টোর পূর্বে একটি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি খুলে বসেন। একটা সময় সেখানকার একজন গ্লোবাল উদ্যোক্তা ও জনহিতৈষী মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। সেদেশের রাজনীতিতেও যোগাযোগ গড়ে ওঠে তার। কানাডার এই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীই কি বাংলাদেশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয়? কানাডার গ্লোবাল নিউজের সাংবাদিক স্টিওয়ার্ট বেল এবং অ্যান্ড্রু রাসেল অনুসন্ধান চালিয়েছেন।

টরোন্টোর ব্যবসায়ী তারেক রানা বিভিন্ন চ্যারিটি এবং রাজনীতিকদের কার্যক্রমে অর্থ সহায়তা দেন। সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিভিন্ন ছবিতে তাকে প্রধানমন্ত্রী এবং মেয়রদের কার্যালয়ে দেখা যায়। ২০১৮ সালে অন্টারিওর অ্যাজাক্সের সেরা উদ্যোক্তাদের একজন তিনি। অর্জন করেছেন সুনাগরিকের সম্মাননা। স্থানীয় এক ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ৯২টি দেশে ঘুরেছি। এদের সবক’টির মধ্যে কানাডাই সেরা। ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে কানাডার নয়া প্রভাবশালীদের মধ্যে একজন হিসেবে তার নামটি মাথাচাড়া দেয়। তার প্রতি কানাডিয়ানদের আন্তরিকতার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে প্রকাশ করেন সেখানে।

গনমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনের সূত্র ধরে খ্যাতির চূড়ায় ওঠা এই ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশের এক ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ সন্ত্রাসীর মধ্যে বিস্ময়কর মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে নিজ দেশে একটি অপরাধী সংগঠন পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে, যারা চাঁদাবাজি এবং হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। বাংলাদেশের সেই মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয়। তিনি ছিলেন ক্রাইম গ্রুপ সেভেন স্টারের নেতা। কানাডার ব্যবসায়ী রানা এবং বাংলাদেশের সন্ত্রাসী জয়ের মধ্যে অসম্ভব মিল পাওয়া যায়। এই সন্ত্রাসী কলকাতায় বসবাস করতেন করতেন বলেও তথ্য রয়েছে।

সেই সময়কার পত্রিকায় ছাপানো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ছবি

পুলিশের তথ্য এবং আদালতের নথি বলছে, বাংলাদেশের সেভেন স্টার গ্রুপের নেতাকে ২০০৭ সালে কলকাতায় গ্রেপ্তার করা হয়। কলকাতায় তিনি তারেক রানা নামেই অবস্থান করছিলেন এবং যখন গ্রেপ্তার হন তখন তার ওই নামই রেকর্ড করা হয়েছিল। আবার কানাডার অ্যাজাক্সের ওই ব্যবসায়ীর নামও তারেক রানা। ২০০৭ সালে কলকাতায় গ্রেপ্তারের পর যে ছবি তোলা হয় তা প্রকাশ পেয়েছিল। ভারতীয় আদালতে মো. তারেক রানার নামে ইস্যুকৃত একটি ভারতীয় পাসপোর্টও জমা দেওয়া হয়। অ্যাজাক্স ব্যবসায়ীর জন্মতারিখ, বাবার নাম, স্ত্রীর নাম সেই গ্রেপ্তারকৃত তারেক রানার সবকিছুর সাথেই মেলে। সেই পাসপোর্টটি রানাকে দেখালে এটা যে তারই তা তিনি স্বীকার করেছেন। কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার ক্ষেত্রে পরিচয় চুরির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন।

ই-মেইলের মাধ্যমে জানান, ‘কেউ একজন আমার পাসপোর্ট এবং ছবি ব্যবহার করছে। এজন্যে আমি সত্যিই আতঙ্কিত।’ তার দাবি, তিনি স্রেফ একজন ভারতীয় ব্যবসায়ী যিনি ওয়ার্ক পারমিটের বদৌলতে কানাডায় বসবাস করছেন।



কিন্তু রানা এবং মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তির মধ্যে মিলগুলো অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

কলকাতা আদালতের নথি অনুযায়ী, তারেক রানা ১২ বছর আগে ভারতে গ্রেপ্তার হন। সেই রানার সঙ্গে বর্তমান রানার স্বাস্থ্যগত তথ্যের পুরো মিল রয়েছে। ২০০৭ সালে কলকাতায় আথ্রাইটিসের চিকিৎসার জন্য তার দুই পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। একই ঘটনা কানাডার এই ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রেও ঘটেছিল। গ্রেপ্তারকৃত রানার ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিজনেস রেকর্ড এবং ট্যাক্স রিটার্নের তথ্য পরীক্ষা করে তাকে বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী জয় হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। সেখানে তার জন্মতারিখ ৩ মার্চ, ১৯৬৭ লেখা আছে। অ্যাজাক্সের ব্যবসায়ীর জন্মতারিখ একই।

সন্দেহভাজন এই ব্যক্তির কলকাতায় গার্মেন্ট ব্যবসা ছিল। প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘গাউস ফ্যাশন’। তারেক জানান, ২০১৩ সালে কানাডা আসার আগে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিয়েছেন। কলকাতায় আটক হওয়া সেই ব্যক্তির বাবার নাম ছিল সোহেল রানা। কানাডার তারেকও জানান, তার বাবার নামও একই।

বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী জয় এখন কোথায় আছেন কেউ জানে না। ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে জয়ের যে ছবি রয়েছে সেখানে তার হত্যা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য রাখার অপরাধের কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি মহিউল ইসলাম বলেন, মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীদের তালিকায় ছিল এই অভিযুক্ত ব্যক্তি। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সবার বিরুদ্ধে ভয়ংকর অপরাধে অভিযোগ রয়েছে। জয়ের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাকাণ্ড, দুটি হত্যাচেষ্টা, ভয়ংকর অস্ত্র দিয়ে মারাত্মক জখম এবং চাঁদার জন্য শারীরিক ক্ষতির হুমকি প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

কানাডার অ্যাজাক্সের অফিসে বসে তারেক জানান, তিনি আসলে সেই সন্ত্রাসীর মতোই দেখতে। কিন্তু তিনি জয় নন। ইন্টারপোলের ছবি দেখানোর পর তিনি বলেন, ‘আমি এই ব্যক্তি নই।’

তারেককে চেনেন এমন এক কানাডিয়ান বলেন, ‘এখানে সবাই তার ওপর আস্থা রাখেন, তাকে বিশ্বাস করেন।’

রানা জানান, তিনি ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। কিন্তু জয় ছিলেন বাংলাদেশি। তাছাড়া তিনি জয়ের চেয়ে লম্বা। জয়কে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, ওই সময়টাতেই তিনি পায়ের অস্ত্রোপচারের জন্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কানাডায় স্থায়ী বসবাসের জন্যে তাকে ভারতীয় পুলিশের ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিতে হয়েছে। ‘যদি আমি গ্রেপ্তার হতাম তবে এই সার্টিফিকেট কিভাবে পেলাম?’ প্রশ্ন তারেকের।

উল্টো তিনিই প্রশ্ন করেন, ‘সেভেন স্টার গ্রুপটা আসলে কি?’

বাংলাদেশের ‘সেভেন স্টার গ্রুপ’

নব্বুইয়ের দশকে বাংলাদেশে সন্ত্রাসীদের নিয়ে গড়ে ওঠে সেভেন স্টার গ্রুপ। রাজধানী ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় ছিল তাদের লক্ষ্য। সময়ের ব্যবধানে তারা বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর এজেন্সি খুলে বসে। জয় ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামতো। বেশ কয়েকটি খুন ও গোলাগুলির ঘটনায় এই গ্রুপ জড়িত।

২০০০ সালে জয়কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা চাওয়ার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরই জয়ের বিরুদ্ধে একটি হত্যাকাণ্ড এবং অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে।

তথ্য রয়েছে, তিনি ২০০১ সালে মালয়েশিয়া চলে যান। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের এক পত্রিকা প্রতিবেদনে জানায়, তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। সেই সময় বাংলাদেশ পুলিশ দেশের ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর পোস্টার প্রকাশ করেছিল।

জয়কে নিয়ে পুলিশের কাছে যেসব মামলা রয়েছে, তার মধ্যে ২০০৬ সালের ১৪ মে’র রক্তাক্ত ঘটনায় জয় মোস্ট ওয়ান্টেড হয়ে যান। সিঙ্গাপুর থেকে ফোনকলের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের জব রিক্রুটার টার্কি অ্যাসোসিয়েট লি. এর কাছে ৫ কোটি টাকা দাবি করেন। প্রতিষ্ঠানের মালিক চাঁদা দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। পরে ঢাকায় ওই প্রতিষ্ঠানের অফিসে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। সেখানে ছয়জনকে গুলি করা হয়। দুজন মারা যান। এই হামলার পর জয় ফোন করে আবারো চাঁদা দাবি করেন। সন্ত্রাসী জয়ের সঙ্গে জড়িত দুজনকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর আফতাব আহমেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

২০০৭ সালে রাজধানী ঢাকার গড গিফট ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিতে গোলাগুলির ঘটনাতেও জয় জড়িত। এই প্রতিষ্ঠানে ফোন এসেছিল ভারত থেকে। তাদের কাছেও ৫ কোটি টাকা চাঁদা চাওয়া হয়, এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করে ডেইলি স্টার। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা জয়ের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন।

ডেইলি স্টারের বরাত দিয়ে গ্লোবাল নিউজের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ম্যানপাওয়ার রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কয়েকজন কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে সন্দেহ করে পুলিশ। তিনি এজেন্সিগুলো থেকে কলকাতা, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর থেকে ফোনকল করে ৫ কোটি টাকা করে চাঁদা দাবি করতেন।

ভালোবাসার টানে কানাডা

‘আমার হৃদয়ের ভালোবাসার টানে আমি কানাডা এসেছি’, মিলিওনিয়ার মাইন্ডসেট নামের এক ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন তারেক। কলকাতার এক নারীর প্রেমে পড়েন তিনি। ওই নারী কানাডায় বসবাস শুরু করেন এবং তার জন্যে তারেকও কানাডা আসেন।

তিনি জানান, ২০১১ সালে তিনি প্রথম টরোন্টোতে আসেন। কলকাতায় পায়ের চিকিৎসা করিয়ে বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া হয়ে তিনি কানাডা আসেন। পরে ভারতে ফিরে কানাডায় স্থায়ী হওয়ার লক্ষ্যে ‘ইমিগ্রেন্ট ইনভেস্টর’ হিসেবে আবেদন করেন। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাব ছিল তার। ফলে আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। পরে তাকে ১০ বছর মেয়াদি ভিজিটর ভিসা প্রদান করা হয়। এরপর তিনি ডারহাম অঞ্চলে ঘাঁটি গাড়েন। পিকারিং এলাকায় একটি বাড়ি কিনে প্রতিষ্ঠান খোলেন। সেই প্রতিষ্ঠানের অফিসে একটি কর্পোরেট শ্লোগান টাঙিয়ে দেন, ‘আপনি স্বপ্ন দেখুন, আমরা গড়ে দেই’।

অন্টারিওর কর্পোরেট রেকর্ড বলছে, ‘এসজে৭১ লি.’ নামের কম্পানিটি প্রাদেশিক সরকারের অনুমোদন নিয়ে ২০১৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করে। ওই প্রতিষ্ঠানের দুজন পরিচালক- একজন তারেক রানা এবং অন্যজন শোহানা আজমি। অন্টারিওতে কোনো কম্পানি খুলতে হলে অন্ততপক্ষে একজন বোর্ড সদস্যকে কানাডার নাগরিক হতে হবে। এক্ষেত্রে তারেক একা যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন না। কিন্তু আজমি সেখানকার নাগরিক।

আজমি জানান, তিনি কখনোই ওই কম্পানিতে যোগ দিতে রাজি হননি। কিন্তু পরে জানতে পারেন তাকে কম্পানির পরিচালনা পর্ষদে রাখা হয়েছে। তখন তিনি সরে যেতে চান। আজমির প্রস্তাবে রাজি হন তারেক। ২০১৪ সালে তারেক তার কম্পানির পরিচালনা পর্ষদে আজমির পরিবর্তে আরেকজন উদ্যোক্তাকে আনেন।

কানাডায় তারেককে নিয়ে সমস্যা শুরু হয় ২০১৫ সালে। মেক্সিকোয় একটি বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়ে ফেরার সময় তাকে নানা প্রশ্ন করেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী জয়ের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার কথা জানতে চান। পরের বছর তিনি যখন কানাডায় ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করেন, তখন তাকে আরসিএমপি সিকিউরিটিতে রাখা হয়। তারেক জানান, তখন তার চেহারা-ছবি এবং আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পুলিশ। নিজের ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত করতে রানা অ্যাজাক্সের লিবারেল এমপি মার্ক হলান্ডের অফিসে যান।

এ প্রসঙ্গে মার্ক হলান্ডের মুখপাত্র মাইকেল রাদোস্লাভ বলেন, ‘তারেক রানার বিষয় নিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠান সতর্কতার সাথে অনুসন্ধান চালায়। এটা যেকোনো বিপদগ্রস্ত মানুষের ক্ষেত্রেই করা হয়। কানাডায় আসার পূর্বে তারেক রানার অতীত সম্পর্কে হলান্ড কিংবা তার অফিস কিছুই জানতো না। কেবল কানাডায় ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বসবাস করছেন এমন এক ব্যক্তির আবেদন এবং ইমিগ্রেশন রিফুজি ও সিটিজেনশিপ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়েই অনুসন্ধান করে আমাদের অফিস।’

তবে রানা এবং এমপি হলান্ডের বেশ কয়েকটি ছবি রয়েছে, যেগুলো তোলা হয় ‘এসজে৭১’ এর অফিসে। অবশ্য মুখপাত্র মাইকেলের দাবি, হলান্ডের সাথে রানার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই এবং এমপি’র কোনো ক্যাম্পেইনে রানার কোনো ভূমিকা ছিল না।

২০১৯ সালের অক্টোবরে কানাডার নির্বাচনের দুই দিন আগে রানা ফেসবুকে হলান্ডের ক্যাম্পেইন নিয়ে একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে হলান্ডকে কানাডার সেরা এমপি উল্লেখ করে তার পক্ষে ভোট চেয়েছেন তিনি।

জনকল্যাণমুখী, রাজনীতিতে অর্থ যোগানদাতা

বিস্ময়করভাবে অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে তারেক রানা ‘মিস্টার অ্যাজাক্স’ নামে পরিচিত হয়ে যান। দ্রুত বর্ধনশীল ডারহামে বিনিয়োগ এবং চাকরির সুযোগ সৃষ্টির মিশন নিয়ে আসা এক অনন্য ব্যক্তিত্বের পরিচয় ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। যারাই তার বন্ধু হয়ে উঠেছেন তারাই রানাকে একজন বিনয়ী এবং ভদ্রলোক হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন।

তার প্রতিষ্ঠান কানাডিয়ান ফ্যাশন উইক এবং ডারহাম ক্যারিবিয়ান ফেস্টিভ্যালের বড়সর স্পন্সর। গ্র্যান্ডভিউ চিলড্রেন্স সেন্টারে তার পক্ষ থেকে কখনো ১০ হাজার ডলার, আবার কখনো সাড়ে ৭ হাজার ডলারের মতো স্ফীত অংকের চেক পৌঁছে যায়।

২০১৮ সালে কার্যক্রম শুরুর দ্বিতীয় বছরের মাথায়ই ‘এসজে৭১’ প্রতিষ্ঠানটি সম্মাননা বাগিয়ে নেয় টাউন অব অ্যাজাক্সের পক্ষ থেকে। সেই ছবি প্রকাশ পায় ডারহাম সিটিজেন পত্রিকায়। এমনকি মার্চে মিউনিসিপাল ওয়েবসাইটে রানার ছবির দেখা মেলে। ওখানে মেয়র শন কলিয়ারের সাথে রানাকে নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে রানাকে একজন ‘ভিশিওনারি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। অবশ্য ছবি ও নিবন্ধ মুছে ফেলা হয়েছে গত সপ্তাহে। আরেকটি পত্রিকার এক প্রতিবেদনে রানাকে অ্যাজাক্স-পিকারিং বোর্ড অব ট্রেডের সক্রিয় সদস্য হিসেবে প্রচার করা হয়।

কানাডার এই তারেক রানার সাথে আরেকজনের ছবি ফেসবুকে দেখা গেছে। সেই ছবিতে তার পাশেরজন প্যাট্রিক ব্রাউন। অন্টারিওর সাবেক কনজারভেটিভ নেতা। তিনি ২০১৮ সালে সফলভাবে ব্রাম্পটনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্রাম্পটনের অফিস জানিয়েছে, নির্বাচনে রানার কোনো ভূমিকা নেই। মেয়র এই ছবি দেখে রানাকে চিনতে পারেননি, জানান প্যাট্রিকের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর গ্যারি কলিন্স।

আরসিএমপি, ইমিগ্রেশন, রিফুজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা, কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি এবং ডারহাম পুলিশ তারেক রানা বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

তবে তারেক রানা চিন্তিত হয়ে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর এবং আমি এটা নিয়ে অনেক সমস্যার মুখে পড়েছি।’

বাংলাদেশ সময়: ৬:৫১ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

যোগাযোগ২৪.কম |

Development by: webnewsdesign.com