দ্বিতীয় সত্ত্বা (থ্রিলার)

বুধবার, ২৮ আগস্ট ২০১৯

দ্বিতীয় সত্ত্বা (থ্রিলার)

১.

কবির সাহেবের হাত কাঁপছে, গলা শুকিয়ে আসছে। তিনি এখনো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। তার সামনে খোলা বিশাল একটা টেলিফোন গাইড। বার বার তিনি ফোনে রমনা থানার ওসি কে ধরতে চেষ্টা করছেন, কিন্তু প্রতিবারই তার নম্বর এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

বড় করে একটা ঢোক গিলে তিনি তানিয়ার লাশটার দিকে আবার তাকালেন। নাহ, কল্পনা নয়। লাশটা এখনো আছে। ওইতো পরে আছে তার সোফার ওপর। ঘরে ঢুকেই স্ত্রীর মৃতদেহটিকে সোফার ওপর আবিষ্কার করেন তিনি। জলজ্যান্ত যে মানুষটাকে ঘরে রেখে আজ সকালে অফিসে গিয়েছিলেন, সন্ধায় ঘরে ফিরে তাকে পেলেন মৃত অবস্থায়। গলায় পেচানো একটা নাইলনের রশির ফাঁস। বোঝা যাচ্ছে ওই ফাঁস দিয়েই শ্বাস রুদ্ধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে তানিয়াকে।

৯ম বারের চেষ্টায় তিনি থানায় ফোন করতে সমর্থ হলেন। ওপাশ থেকে হাই তুলতে ফোন ধরল একজন ডিউটি অফিসার। কবির ভাঙা গলায় কোনমতে খুনের ঘটনাটি জানালেন। তার কন্ঠ বার বার জড়িয়ে আসছে। কি বলছেন তিনি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। ফোন শেষ করে তিনি ফিরে এলেন স্ত্রীর লাশের কাছে। তানিয়ার শরীর ইতিমধ্যে ঠাণ্ডা হয়ে এসেছে, মুখটা শান্ত, যেন ঘুমিয়ে আছে। শুধু বুকটা আর ধুকপুক করছে না। দুহাতে তিনি মৃতদেহটিকে জরিয়ে ধরে অদম্য কান্নায় ভেঙে পরলেন।
তানিয়া
তানিয়া
তানিয়া….

২.
মনরোগ বিশেষজ্ঞ ড.ফাহাদ শাহরিয়ার যত্ন করে কাচ মুছে চশমাটি আবার চোখে দিলেন। এটি তার প্রিয় কাজগুলোর একটি। অনেকটা মুদ্রা দোষও বলা যায়। একটু পর পর তিনি চশমার কাঁচ মোছেন। এই কাজের জন্যে তার একটা বাহারি ডিজাইনের রেশমি রুমাল রয়েছে। কাঁচ মোছা শেষ হলে তিনি যত্ন করে রুমালটা ভাঁজ করে পকেটে ঢুকিয়ে রাখেন। তার ধারণা এই কাজটি করলে তার চিন্তা ভাবনা পরিষ্কার হয়, মস্তিষ্ক দ্রুত কাজ করে। তিনি এই মুহূর্তে বসে আছেন রমনা থানার ওসি সাহেবের রুমে। রাত দশটার দিকে পুলিশ গিয়ে একরকম জোর করেই তাকে বাসা থেকে তুলে এনেছে। ডিনার করতে বসেছিলেন, শেষ করতে পারেননি। থানায় আসার পর এক কাপ চা দেয়া হয়েছিল। আশ্চর্যজনক ভাবে চা’টা ছিল অমৃতের মত।

এক কাপ শেষ করে আর এক কাপ খেতে ইচ্ছে করছিল। কাকে চা দিতে বলবেন বুঝতে পারছেন না। তাকে এই খালি রুমটায় গত আধা ঘন্টা ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ওসি সাহেব এখনও দেখা করেননি।
ডক্টর ফাহাদের কোলের ওপর একটা ডায়রি খোলা। সস্তা টাইপের ডায়রি, র্যাক্সিনে বাঁধানো মলাট, বাধাই একটু আলগা হয়ে এসেছে। ডায়েরির চেহারায় তার লেখকের চরিত্রের অনেকখানি ছাপ পড়ে। এই ডায়রিটি দেখেই বলে দেয়া যায় এর লেখক বিরাট মানসিক সমস্যায় আছে। গত আধা ঘণ্টা ধরে তিনি ডায়রিটি পড়ে যাচ্ছেন। চশমা পরিষ্কার করে তিনি আবার প্রথম থেকে পড়তে শুরু করলেন। কি লেখা আছে তিনি জানেন, তারপরেও সময় কাটানো আর কি।

ডাইরিটাতে এভাবে লিখা,
১২-৩-১৯
” আমার নাম কবির। বয়স ৩৪। নাকি ৩৬?? জানি না।। ইদানিং অনেক কিছুই ঠিকঠাক মনে করতে পারি না, মাস চারেক ধরে এই সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে।
” আমার নাম কবির। আমি একজন একাউন্ট্যান্ট। আমার স্ত্রীর নাম তানিয়া। আমি আর আমার বউ থাকি ধানমন্ডির ৩৬ নম্বর বাড়িতে। আমাদের কোন ছেলেপুলে নেই। আমরা অনেক ট্রাই করেছি, লাভ হয়নি।

১৫-৩-১৯
” আমার নাম কবির। আমার জন্ম ভোলা জেলার চৌমুহনী গ্রামে। আমার স্ত্রীর নাম তানিয়া। । তার জন্ম ঢাকাতে।

১৬-৩-১৯
” আমার স্ত্রীর নাম তানিয়া। সে আমার দেখা বাংলাদেশের সবচে সুন্দরি মহিলা।উহু শুধু বাংলাদেশ না, সারা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরি। বেশি প্রশংসা করে ফেললাম? আচ্ছা করলামই বা, কি আসে যায়। আমার বউয়ের রুপের প্রশংসা আমি না করলে কি পাশের বাড়ির আক্কাস করবে? আমি আমার স্ত্রিকে অনেক ভালবাসি। সে ভালবাসা যে কতটা লিখে প্রকাশ করা যাবে না।

১৮-০৩-১৯
” আমার স্ত্রীর নাম তানিয়া। সে টক খেতে পছন্দ করে। বোটানিক্যাল গার্ডেন তার সবচে প্রিয় জায়গা। আমি বোটানিক্যাল গার্ডেন পছন্দ করি না। টক খেতেও পছন্দ করি না। কিন্তু আমি আমার স্ত্রিকে ভীষণ ভালবাসি। তাকে নিয়ে মাঝেমাঝে আমি বোটানিক্যাল গার্ডেন ঘুরতে যাই। নাম না জানা নানা রকম গাছপালা দেখে আমার স্ত্রি আনন্দে লাফঝাঁপ দেয়। আমি মুগ্ধ হয়ে তার আনন্দ দেখি। সৃষ্টিকর্তা আমাকে এতো সৌভাগ্য দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন?

২৫-৩-১৯
” আমার নাম কবির। আমার স্ত্রীর নাম তানিয়া। সে অন্তসত্তা। দু’মাস চলছে। আমরা ভীষণ খুশী।
” তানিয়া আন্তসত্তা। দুমাস চলছে। শেষ কবে আমি ওর সাথে শুয়েছিলাম? জানি না। ইদানিং অনেক কিছুই ঠিকঠাক মনে করতে পারি না, মাস তিনেক ধরে এই সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে।
২৮-৩-১৯
“তানিয়া কি আসলে আমার সাথে শুয়ে সুখ পায় না? না না তা কি করে হয়? আমাদের সংসারে নতুন অতিথি আসছে। এখন কি এসব ভাবার সময়? কি ভাবছি আমি? ওর শরীর খারাপ, এই জন্যে কিছুদিন ধরে আমার সাথে কিছু করছে না। আচ্ছা শেষ যেদিন ওর সাথে শুয়েছিলাম… কি মাস ছিল? মনে পড়ে না কেন?

৩০-৩-১৯
” আজ খাটের নিচে একটা সিন্দুকে অনেকগুলো পুরনো চিঠি খুজে পেলাম। রকিব নামে কেউ একজন তানিয়াকে এই চিঠিগুলো লিখেছে। সবগুলই প্রেমের চিঠি। এই রকিবটা কে?

১-০৪-১৯
” আমার নাম কবির। আমি আমার স্ত্রিকে অনেক ভালবাসি। সে অন্তসত্তা। কেন সে অন্তসত্তা? কিভাবে? আমিতো কিছু করিনি। আমার স্ত্রীর জিবনে কি দ্বিতীয় কেউ আছে?

২-০৪-১৯
” আজ তানিয়ার মোবাইল ফোনে রকিব নামে একজনের নম্বর দেখতে পেলাম। সে কি আবার রকিবের সাথে যোগাযোগ করছে?

৩-০৪-১৯
“আমার নাম কবির। আমার স্ত্রীর নাম তানিয়া। সে একজন বিশ্বাসঘাতক। রকিব নামে একজনের সাথে তার সম্পর্ক আছে। আমি প্রমান পেয়েছি আমার অনুপস্থিতে সে নিয়মিত রকিবের সাথে আমার বাসায় মিলিত হয়েছে।
” আমি এখন নিশ্চিত। নিলার সন্তানের বাবা আমি নই। আমি আমার স্ত্রিকে ঘৃণা করি।
” আমার নাম কবির। আমি আমার স্ত্রিকে ঘৃণা করি।
ডক্টর ফাহাদ হাতের ডায়রিটা বন্ধ করে জোরে একটা নিঃশ্বাস ফেললেন।

৩.
কবির সাহেব রমনা থানার ওসির অফিসে বসে আছেন। পুলিস এসে তানিয়ার ডেডবডি নিয়ে গেছে। পুলিস এখন তার বাসাটা সার্চ করছে। ওসি মফিজ সাহেব তাকে থানায় নিয়ে এসেছেন কিছু ফর্মালিটি সারার জন্য। তিনি এখন টেবিলের ওপাশে বসে মনযোগ দিয়ে একটা ফাইল পড়ছেন।
ওসি সাহেব হাতের ফাইলটা থেকে নজর তুলে বললেন
” আচ্ছা কবির সাহেব, আজ আপনি ঠিক কখন বাড়ি ফিরেছেন?”
” এইতো আটটা-সোয়া আটটার দিকে। আমি ইতিমধ্যে একবার বলেছি” কবির সাহেব জবাব দিলেন।
” আপনি কি সব সময় এই টাইমেই বাড়ি ফিরেন?”
“সবসময় না। একেক দিন একেক টাইমে। ব্যাংকে চাকরি করি তো, ছুটির টাইমের কোনো ঠিক ঠিকানা নেই।”
“আপনি কি নিশ্চিত আজ আপনি রাত আটটার দিকে বাড়ি ফিরেছেন?”
“হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত। বাসায় ঢুকার আগে ঘড়িতে সময় দেখেছিলাম।”
“বাড়ি ফিরে আপনি প্রথম কি করলেন?”
“ঘরে ঢুকেই সোফার ওপর তানিয়াকে দেখতে পেলাম”
“তারপর?”
“তারপর… তারপর থানায় ফোন করলাম।”
“আপনি কি বাড়ি ফেরার পথে আর কোথাও গিয়েছিলেন?”
“নাহ, আমি অফিস থেকে সোজা বাসায় এসেছি।”
“আমরা আপনার অফিসে যোগাযোগ করেছি, সেখান থেকে জানা গেছে আপনি বেলা চারটায় অফিস থেকে বের হয়েছেন। বাকি সময়টা আপনি কোথায় ছিলেন?”
“কোথাও না, আমি সোজা বাসায় ফিরেছি।”
“আপনার বাড়ি ফিরতে নিশ্চয়ই এত সময় লাগার কথা নয়। আপনার অফিস মতিঝিলে আর ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার , জ্যাম ঠেলে আসতেও দুই ঘন্টার বেশি লাগবে না।”
“আ… আমি জানি না।”
“আপনি কি তানিশা নামে কাউকে চেনেন?”
“নাহ”
“রকিব নামটি কি আপনার পরিচিত?”
“নাহ, এই সব কেন জিজ্ঞাসা করছেন?”
“আপনার প্রতিবেশী বলছেন আপনি আজ বিকেল পাঁচটায় বাড়ি ফিরেছেন।”
“নাহ, তাদের নিশ্চয় ভুল হচ্ছে, আমি বাড়ি ফিরেছি রাতের বেলা।”
“আপনার স্ত্রীর লাশের পাশে যে নাইলনের রশির ফাঁসটি পাওয়া গেছে, আপনি কি সেটা স্পর্শ করেছিলেন?”
“না”
“কিন্তু আমরা ওতে আপনার হাতের চিহ্ন পেয়েছি।”
“কি বলছেন এইসব?”
ঘরে একজন মাঝ বয়েসি ভদ্রলোক প্রবেশ করলেন। তার চোখে ভারি চশমা। ওসি সাহেব তাকে দেখিয়ে বললেন, ” ওনার নাম ফাহাদ শাহরিয়ার । উনি একজন মনরোগ বিশেষজ্ঞ। আপনি কি তাকে চেনেন?”
“নাহ, উনাকে আমি কিভাবে চিনব?”
“ঠিক আছে, মিস্টার কবির। আপনি আরেকটু অপেক্ষা করুন, আমি এক্ষুনি আসছি।”
ওসি মফিজ ও ডক্টর ফাহাদ ঘর থেকে বের হয়ে এলেন। ডক্টর মাথা নেড়ে বললেন “আমি যা ভেবেছিলাম, অবস্থা তার থেকেও অনেক সিরিয়াস।”
“পুরো ব্যাপারটা খুলে বলুন তো ডক্টর।” ওসি তার গোল পেটটাতে হাত বুলাতে বুলাতে বললেন। ওসির চেহারায় বিভ্রান্তির ছাপ স্পষ্ট। এই পেশায় তিনি আছেন পনেরো বছর, বিভ্রান্তি জিনিসটা তিনি একেবারেই পছন্দ করেন না। তার পেশায় দ্বিধা বিভ্রান্তি এইসবের একেবারেই স্থান নেই।

৩.
ফাহাদ কি বলবেন সেটা এর মধ্যেই ঠিক করে নিয়েছেন। প্রায় এক ঘন্টা একা একা খালি একটা রুমে বসে ছিলেন। কি বলবেন গুছিয়ে নেয়ার জন্যে যথেষ্ট সময়। একটা দম নিয়ে তিনি বলতে শুরু করলেন।
“আমি গত এক বছর ধরে মি কবিরের চিকিৎসা করে আসছি। তিনি একটি ভয়ঙ্কর মানসিক রোগে ভুগছেন। এর নাম dissociative personality disorder। এই রোগের অন্যতম লক্ষন হল রুগির মাঝে একাধিক চরিত্র বা সত্তা সৃষ্টি হয়। এই সত্ত্বাগুলো পালাক্রমে রুগির শরীরের দখল নিয়ে নেয়। একটি সত্ত্বা যখন ঘুমিয়ে পরে তখন ওপর সত্ত্বাটি জেগে উঠে। সমস্যা হল একটি সত্ত্বা কিছুতেই তার অপর সত্ত্বাটি স্মৃতিতে প্রবেশ করতে পারে না, অর্থাৎ একটি চরিত্র জেগে উঠার পর সে আগের চরিত্রটি কি করেছে তার কিছুই মনে করতে পারে না।
মিস্টার কবিরের মধ্যে যে অলটার ইগো বা দ্বিতীয় সত্ত্বাটি সৃষ্টি হয়েছিল তার নাম কবির। লক্ষ করলে দেখবেন রকিব আর কবির একই নাম। রকিব নামটি ভেঙে নতুন করে সাজালেই কবির নামটি পাওয়া যায়। ডিসোসিয়েটিভ পার্সোনালিটির রুগিদের মধ্যে এই ব্যাপারটা বেশ কমন। তার অলটার ইগোটি মনে করতে থাকে তার স্ত্রীর নাম তানিশা যা কিনা তানিয়া নামটিরই আরেকটি রুপ। সে সন্দেহ করতে থাকে তার স্ত্রীর সাথে রকিব নামে কারও সম্পর্ক রয়েছে। কবির জানে না যে সে আর রকিব একই ব্যাক্তি। সে এটাও সন্দেহ করে যে তার স্ত্রীর সন্তানের বাবা সে নয়। সে তার স্ত্রীর সাথে মিলনের স্মৃতি মনে করতে পারে না। কারন সেই সময়টায় তার মাঝে রকিব নামক সত্ত্বাটি জাগ্রত ছিল।
অবশেষে স্ত্রীর প্রতি প্রবল সন্দেহ থেকে সে তাকে খুন করে। কিন্তু কবির সাহেব খুনের কথা মনে করতে পারছেন না। কারন খুন করার সময় এই সত্ত্বাটি ছিল ঘুমন্ত। তবে রাকিব বলুন আর কবির বলুন, তিনি নিজেই তার স্ত্রীর হত্যাকারী। কবিরের লিখে যাওয়া ডায়রিটাই তার প্রমান।”
ওসি সাহেব লম্বা দম নিয়ে বললেন “আমি আমার পনের বছরের চাকরি জীবনে এমন কেস আর পাইনি।”
“মানব মন যে কত বিচিত্র হতে পারে তার কোন সিমা পরিসিমা নেই অফিসার।” ফাহাদ মন্তব করলেন।

৪.
রাত সারে বারোটায় ফাহাদ থানা থেকে বের হয়ে এলেন। তিনি একটি স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লেন। যাক, শেষ পর্যন্ত সব কিছু ভালোয় ভালোয় শেষ হল।
আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে প্রথম কবির সাহেবকে নিয়ে তার স্ত্রী তনিশা ওনার চেম্বারে যান। তানিশাকে প্রথম দেখেই ফাহাদ স্তম্ভিত হয়ে পরেন। একটা মানুষ এত সুন্দর হয়!কবির সাহেবের চিকিৎসা করার সুযোগে ধিরে ধিরে তিনি তানিশার সাথে একটা সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বন্ধুত্বের সম্পর্ক এক সময় বিছানায় গড়ায়। বেশ কয়েকবার তারা একত্রে রাত্রি যাপন করেন। কিন্তু সমস্যা হয় তখন যখন তানিশা প্রেগন্যান্ট হয়ে পরে। তানিশা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করে, হুমকি দেয় সব কিছু ফাঁস করে দেবে। ডক্টর ফাহাদ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মনরোগ চিকিৎসক। এই ধরনের স্ক্যানডাল তার ক্যারিয়ারকে শেষ করে দিতে পারে। মেডিক্যাল লাইসেন্সও বাতিল হয়ে যেতে পারে। এই ঝুঁকি তো তিনি নিতে পারেন না।
ফাহাদ অত্যন্ত সাবধানে এগুলেন। তিনি তানিশার উন্মাদ স্বামীকে বুঝালেন তানিশা অন্য কারও সাথে সম্পর্কে জরিয়ে পড়ছে এবং সেই অন্য কেউটা হলো রকিব।

তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ সাইকিয়াট্রিস্ট। অত্যন্ত সুচারু ভাবে তিনি কবিরের চিন্তা ভাবনার দখল নিয়ে নিলেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি কবিরের মনে স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ বদ্ধমুল করতে সক্ষম হলেন। নানা ভাবে তিনি স্ত্রীর প্রতি রকিবের মন বিষিয়ে তুললেন।
অবশেষে যা হবার তাই হল। স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ থেকে উন্মাদ কবির তানিশাকে খুন করল। অথচ কেউ জানল না তার স্ত্রীর সাথে সত্যি দ্বিতীয় একজনের সম্পর্ক ছিল।
A very good plan perfectly executed
মুচকি হেসে ফাহাদ বাড়ি ফেরার জন্য ট্যাক্সি খুজতে লাগলেন।
লিখাঃ সানজিদা রিনি
লেখক, কলামিস্ট ও ফটোগ্রাফার

বাংলাদেশ সময়: রাত ১২:৫০ | বুধবার, ২৮ আগস্ট ২০১৯

যোগাযোগ২৪.কম |

Development by: webnewsdesign.com