বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০
Home বাংলাদেশ জেলার খবর নরসিংদীতে “ছেলেধরা” সন্দেহে দুই যুবককে গণপিটুনি

নরসিংদীতে “ছেলেধরা” সন্দেহে দুই যুবককে গণপিটুনি

- Advertisement -

 নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীর মাধবদীতে ছেলেধরা সন্দেহে পৃথক স্থানে দুই যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে মাধবদীর কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খড়িয়া বাজারে ও রবিবার দুপুরে মাধবদী পৌরসভার টাটাপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিরা হলো নরসিংদীর পূর্ব ভেলানগর এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মাসুম (৩২) ও রাজবাড়ী জেলার ইউনিয়নের সিংড়া বাজার গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৩০)। তবে আটককৃতদের দুজনই পরিস্থিতির শিকার এবং তারা নির্দোষ বলে দাবী করেন তাদের নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশীরা।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে মাধবদীর কাঠালিয়া ইউনিয়নের খড়িয়া বাজারে ছেলেধরা সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরদিন রবিবার দুপুরে খবর পেয়ে তার মামী মীনা বেগম এসে মাসুমের পরিচয় নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মাসুম পেশায় একজন অটো চালক। ছোট বেলায় মা মারা যাওয়ায় তখন থেকে তিনিই তাকে লালন পালন করে বড় করেছেন। শনিবার বিকাল ৪টার পর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিলো। পরে লোক মারফত খবর পেয়ে তিনি থানায় আসেন। মাসুমকে নির্দোষ দাবী করে তিনি বলেন ঘটনার পর থেকে তার অটোরিক্সাটি পাওয়া যাচ্ছেনা। রিক্সাটি হাতিয়ে নিতেই একটি চক্র “ছেলেধরা” নাটক সাজিয়ে তাকে গণপিটুনিতে ফেলেছে বলে উনার ধারণা। এদিকে গণপিটুনির শিকার মাসুম জানায়, শনিবার বিকেলে সে নরসিংদী থেকে যাত্রী নিয়ে খড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের কাছে এসে যাত্রিরা জুস ও কিছু খাবার কিনে। এরপর সে আর কিছু জানেনা।

অন্যদিকে, রবিবার দুপুরে মাধবদী পৌরসভার টাটাপাড়া মহল্লায় এক বাচ্চাকে বিস্কুট কিনে দেয়ায় ছেলে ধরা সন্দেহে নজরুল ইসলাম নামে আরেকজনকে স্থানীয় জনতা আটক করে গণপিটুনী দিয়ে মাধবদী পৌরসভায় নিয়ে আসে। সেখানে তার সাথে কথা বলে জানা যায়, সে টাটাপাড়া মহল্লার সুরু মিয়া নামক জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে দীর্ঘদিন যাবৎ ভাড়া থেকে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। ঘটনার দিন সে দোকানে বসে চা- বিস্কুট খাওয়ার সময় এক শিশুকে বিস্কুট কিনে দেয়। এতে সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে ছেলেধরা সন্দেহে আটক করে মারধর করে। পরে তাকে মাধবদী পৌরসভায় নিয়ে আসলে খবর পেয়ে সেখান থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।

স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের অভিমত ছেলেধরা আটকের ঘটনা দুটি নিছকই গুজব। প্রকৃতপক্ষে দুজনই শ্রমজীবী মানুষ এবং তারা ভিন্ন পরিস্থিতির শিকার। তারা বলেন সন্দেহজনকভাবে এমন গণপিটুনি চলতে থাকলে অনেক নিরীহ মানুষ এ ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারাবে।

 

মোঃ আল-আমিন সরকার

সর্বশেষ

বলাকা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি

রাজধানীর নিউমার্কেট থানা এলাকার মিরপুর রোডের চাঁদনী চক শপিং কমপ্লেক্সের বলাকা ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আজ বুধবার দুপুর দেড়টায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার...

স্থানীয়ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি ও সংযোজনে ভারতের সহযোগিতার আশ্বাস

ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কে. দোরাইস্বামী জানিয়েছেন, ভারতের মাহিন্দ্রসহ অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বাংলাদেশে তাদের ফ্যাক্টরি স্থাপন করে স্থানীয়ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি ও...

পাকিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ৫, আহত ২০ জন

পাকিস্তানের একটি আবাসিক ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। হতাহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম...

স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাল থেকে শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজা

করোনা মহামারীর কারণে পুরা দমে পালন হচ্ছে না এবারের দুর্গাপুজা, তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রেখে কাল থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের...