মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০২০
Home মুক্তমঞ্চ প্রিয়া সাহার গেম টা কি তাহলে সাইকোলজিকাল?

প্রিয়া সাহার গেম টা কি তাহলে সাইকোলজিকাল?

- Advertisement -

প্রিয়া সাহার আন্তর্জাতিক মিথ্যা বক্তব্য সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে, সংখ্যালঘুদের শান্তির জন্য তিনি যে তা করেননি সেটা পরিস্কার । তিনি চেয়েছিলেন, তার একটা জায়গা তৈরী হোক এবং সেদিক দিয়ে তিনি যথেষ্ট সফল।

তিনি আগে থেকেই জানতেন, এরকম কোন বক্তব্য দিতে হবে, যাতে সারা দেশের মানুষ মারমার কাটকাট একটা অবস্থার মধ্যে চলে আসে। এই সিস্টেমটা হলো সাধারণ মানুষকে সাইকোলজিক্যাল ট্রেপে ফেলে উদ্দেশ্যে হাসিলের মতো।

প্রিয়া সাহা যেমনটা চেয়েছিলেন, তেমনটা তিনি পেয়েছেনও। সারা দেশের একটা বৃহৎ অংশ প্রিয়া সাহাকে নিয়ে মারমার কাটকাট অবস্থায়ই অবস্থান করছেন। এই সুযোগে প্রিয়া সাহা রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে আমেরিকাতে আবেদন করেছেন। কি বুদ্ধিরে বাবা! তিনি এই দেশের মানুষের মাথা বেঁচে দিয়ে কিনে নিয়েছে নিরাপদ জীবনের শান্তির আশ্রয়।

এরকম সুযোগ তো আর বারবার আসেনা। কারন নেড়া যে বেল তলায় একবারই যায়। সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব করতে যেয়ে, নিজের প্রতিনিধিত্ব করে স্বার্থ উদ্ধার করাতে সে সাকসেসফুল। এখন আপনি মানুন বা না মানুন এটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যাপার। সংখ্যালঘুরা এই দেশে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, এটা আংশিক সত্য। তবে এটা কেবল এই দেশেই না, পৃথিবীর প্রতিটা দেশেই সংখ্যালঘুরা কিছুটা নির্যাতিত হয়। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। যেই দেশে মুসলমান সংখ্যালঘু, সেই দেশে মুসলিমরা নির্যাতিত হয় এবং হচ্ছে। তবে বাংলাদেশকে আমার কাছে অসাম্প্রদায়িক দেশ বলেই মনে হয়। হিন্দুর ঘরে আগুন লেগেছে, এটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মনে হয়, অথচ এই দেশে কত মুসলিমই মুসলিমের ঘরে আগুন দিচ্ছে। তাহলে সেটা কি?

সংখ্যালঘুর মাথা কাটা গেছে, অথচ মুসলমান মুসলমানের মাথা কাটছে ক’দিন পর পর। প্রকাশ্যে হত্যা করছে। আরে ধুর এটা কোনো ম্যাটারই না তাই না? সংখ্যালঘুরা ধর্ষনের শিকার হচ্ছে, অথচ এই দেশে মুসলিমরাও মুসলিমদের ধর্ষন করছে। পত্রিকা ঘাটুন একটু তাহলেই টের পাবেন।

অপরাধীর কোন সম্প্রদায় থাকেনা, এরা মানসিক ভাবে এতটাই বিদ্ধস্ত যে, এরা যা করে তার পুরোটাই মানসিক বিকারগ্রস্থতা। এটা কিন্তু মেডিক্যাল সাইন্স ও বলে। একটা গল্প বলি শুনুন তাহলে- বছরতিনেক আগে, ফার্মগেটে একটা বাসায় থাকতাম। আমার রুমমেট ছিল এক হিন্দু মেয়ে। আমার পাশের রুমে সিট ভাড়া দিয়েছিলাম এক এক খৃষ্টান মেয়েকে। একসাথে কোচিং করতাম, একই প্লেটে খাবার খেতাম, একসাথে আড্ডা দিতাম। কখনো তো একবারও আমাদের কারো ভেতর সাম্প্রদায়িকতা ব্যপারটা আসেনি।

আমার শত শত বন্ধু বান্ধব আছে অন্য ধর্মাবলম্বী, আমরা একসাথে খাই, একসাথে ঘুমাই। আমার এক হিন্দু ছোট বোন আমার সাথে একবার আমাদের গ্রামের বাড়ি যেয়ে ৭-৮ দিন থেকেছিলো। আমরা গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাই, আমার মা সেই ছোট বোনের জন্য মাছ রান্না করে, অন্য খাবার তৈরী করে রাখে। মনে মনে আফসোস করে বলে, ছেলেটা আমার কিছুই খেতে পারলো না। এটাও কি সাম্প্রদায়িকতা? কি হলো বলুন?

নাহ, আমরা এরকম করেই ভাই বোন মিলেমিশে চলি। মিলেমিশে বাঁচি। দু একটা অনাকাঙ্খিত ঘটনা, দু একশো অনাকাঙ্খিত ঘটনাও এই অসাম্প্রদায়িক দেশকে, সাম্প্রদায়িক বলতে পারেনা।

সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং বিকৃতদের অপরাধকে আমরা কোনভাবেই রাষ্ট্রের উপর চাপাতে পারিনা।

হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিয়া, চাকমা, মারমা, হাজং, পাঙন সবাইকেই আমি ভাইয়ের /বোনের মতন দেখি। সংস্কৃতি আলাদা হতে পারে, মাটির টানটা আলাদা নয়। দিনশেষে একই কর্মস্থলে বসে আমরা একসাথে চা খাই/কাজ করি/আড্ডা দেই। আমার ভেতর সাম্প্রদায়িকতা তো আমি দেখিনা। তাহলে আপনাদের মতো কিছু শিক্ষিত মূর্খদের ভিতর সাম্প্রদায়িকতা কেন?

 

সানজিদা রিনি

লেখক, কলামিস্ট, ফটোগ্রাফার

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

সর্বশেষ

ইরানি বিজ্ঞানী হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে ইসরাইলি অস্ত্র

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদে-কে হত্যা করা হয়েছে দখলদার ইসরাইলে তৈরি অস্ত্রের সাহায্যে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের ভগ্নাংশ বিশ্লেষণের পর এ বিষয়ে...

বাড়নো হয়েছে আয়কর রিটার্ন জমার সময়

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর ও রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। আজ জমা দেওয়ার শেষ সময় থাকলেও আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে...

দেশে আরেও ৩৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৫২৫

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরেও ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ হাজার ৬৪৪ জনে। এছাড়া নতুন করে রোগী...

ঘরের বাইরে মাস্ক না পরলে হতে পারে জেলও

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মধ্যে ঘরের বাইরে মাস্ক ছাড়া বের হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজায় কারাগারেও যেতে হতে পারে। আর করোনার তিন কোটি টিকা বিনামূল্যে বিতরণ করবে...