শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২০
Home টপ নিউজ মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরার ভয়াবহ সেই কাহিনী শোনালেন বাংলাদেশি বিলাল

মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরার ভয়াবহ সেই কাহিনী শোনালেন বাংলাদেশি বিলাল

- Advertisement -

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার তিউনিশিয়া উপকূলে অর্ধশতাধিক যাত্রীবাহী নৌকাডুবিতে যে কয়েকজন প্রাণে বেঁচে গেছেন তাদের একজন বাংলাদেশি যুবক আহমেদ বিলাল। নিজে বাঁচলেও চোখের সামনেই অনেক সহযাত্রীকে ডুবে মরতে দেখেছেন। তিনি নিজেও ঠান্ডা পানিতে ডুবে মারার উপক্রম হয়েছিল। তারপর একদল জেলে এসে তাকে উদ্ধার করে। আহমেদ বিলাল বলেন, বেঁচে থাকার সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। তারপর আল্লাহ যেন আমাদের বাঁচাতে এই জেলে নৌকা পাঠালেন।”

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন কীভাবে বাংলাদেশের সিলেট থেকে ইউরোপের পথে শুরু হয়েছিল তার এই বিপদজনক যাত্রা।

আহমেদ বিলাল এখন তিউনিসিয়ার উপকূলীয় শহর জারজিসে রেড ক্রিসেন্টের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় রয়েছেন। নিজে বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তার দু’জন আত্মীয়। তাদের জন্য কান্না থামাতে পারছেন না তিনি।

নৌকাডুবিতে প্রায় ৬০ জনের মতো পানিতে ডুবে মারা যায়। এ সময় সেখান ১৬ জনকে সেখান থেকে জীবিত উদ্ধার করে জেলেরা। আহমেদ বিলাল সেই সৌভাগ্যবানদের একজন। কিন্তু আরও প্রায় ৬০ জন পানিতে ডুবে মারা যায়। এদের বেশিরভাগই ছিল বাংলাদেশি।

৩০ বছর বয়সী আহমেদ বিলালের বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট জেলায়। সেখান থেকে উন্নত জীবনের আশায় তিনি ইউরোপের পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন দালালদের মাধ্যমে। পারিবারিক জমি বিক্রি করে তিনি দালালের হাতে এজন্য তুলে দেন সাত হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমান অর্থ। এই দালালকে তিনি চেনেন ‘গুডলাক’ ছদ্মনামে।

বেলাল বলেন, “এই দালাল আমাকে বলেছিল, আমরা বেশ ভালো জীবনযাপন করতে পারবো। আমরা তাকে বিশ্বাস করেছিলাম। আমি নিশ্চিত যত লোককে সে এভাবে পাঠায়, তাদের বেশিরভাগই মারা যায়।”

ছয় মাস আগে তাদের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে তারা যান দুবাই। সঙ্গে ছিল আরও দুজন। সেখান থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। সেখান থেকে আরেকটি ফ্লাইটে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে।

বিলাল জানান, ত্রিপলিতে আরও প্রায় ৮০ জন বাংলাদেশি তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর পশ্চিম লিবিয়ার কোন একটা জায়গায় একটি রুমে তাদের তিন মাস আটকে রাখা হয়। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছিল, আমি লিবিয়াতেই মারা যাব। আমাদের দিনে মাত্র একবার খাবার দেয়া হতো। অনেক সময় তারও কম। ৮০ জন মানুষের জন্য সেখানে টয়লেট ছিল একটি। আমরা শৌচকর্ম পর্যন্ত করতে পারতাম না। আমরা খাবারের জন্য কান্নাকাটি করতাম।”

একদিন তাদের উত্তর-পশ্চিম লিবিয়া থেকে একটি বড় নৌকায় তোলা হয়। এরপর সাগরের মাঝে তাদের আরেকটি ছোট নৌকায় তোলা হয়। আহমেদ বিলালের সঙ্গে ওই একই নৌকায় ছিলেন একজন মিশরীয় নাগরিক মনজুর মোহাম্মদ মেতওয়েলা। তিনি জানান, এই ছোট নৌকাটি সাথে সাথে ডুবে যেতে শুরু করে। আমরা সারারাত ধরে সাঁতার কেটে ভেসে থাকি।

বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা বলছেন, তাদের সহযাত্রীদের সবাই ছিলেন পুরুষ। এর মধ্যে ৫১ জন ছিলেন বাংলাদেশের। তিন জন মিশরের। এছাড়া মরক্কো, শাদ এবং আরও কয়েকটি আফ্রিকান দেশেরও কয়েকজন ছিলেন।

বিলাল বলেন, “বেঁচে থাকার সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। তারপর আল্লাহ যেন আমাদের বাঁচাতে এই জেলে নৌকা পাঠালেন।”

জেলেরা মোট ১৬ জনকে উদ্ধার করেন যাদের ১৪ জন বাংলাদেশি। বাকি দু’জনের একজন মরোক্কোর, একজন মিশরের। সূত্র: বিবিসি বাংলা

সুত্রঃ বিডি-প্রতিদিন

সর্বশেষ

The Correct Way To Write A Research Paper

What's a research paper? It is among the most essential details of the academic program. Even when you essay writing service are already a...

The app is wholly free, even if you will pay for month that is cheap -to- dues to help you to get into more...

Article writing is my favourite kind of authorship, even though I've dabbled inside the rapid story genre a small. 1 writer may tackle a...

যুক্তরাষ্ট্র ফের সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

মহামারি করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। গত একদিনে প্রাণহানিতে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে দেশটি। নতুন করে ২৬শ’ মার্কিনির মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে...

বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে ১৪ লাখ ৭৩ হাজার

বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাস আবারও ভয়ঙ্কর হতে শুরু করছে। গত একদিনেও ৮ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ ঝরেছে ভাইরাসটিতে। ফলে মৃতের সংখ্যা ১৪ লাখ ৭৩ হাজার...