বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২০
Home others ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নয়, রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে থাকছে সেনাবাহিনী

ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নয়, রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে থাকছে সেনাবাহিনী

- Advertisement -

ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা তো দূরের কথা, কাউকে আটকের ক্ষমতাও থাকছে না সেনাবাহিনীর হাতে। স্ট্রাইকিং বা রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। দেশে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এই বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। সেনাবাহিনীর মোতায়েনের বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) কোনো সংশোধন আনা হবে না। সশস্ত্র বাহিনী ইসি নির্দেশে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এসব বিষয় জানা যায়।

জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পক্ষে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধিতা না থাকলেও সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা চায় বিএনপি। অপরদিকে আওয়ামী লীগ চায় সেনাবাহিনী নির্বাচনের মাঠে থাকবে ফৌজদারি বিধির এখতিয়ারের আওতায়।

বাংলাদেশের বিগত নির্বাচনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর দশটি নির্বাচনের মধ্যে আটটি নির্বাচনেই সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করেছে। তবে দায়িত্বের প্রক্রিয়া ছিলো ভিন্ন। ১৯৭৯, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনগুলোতে সেনা মোতায়েন করা হয় নি। তখন রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা থাকায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয় নি। অবশ্য ১৯৮৬ সালে সামরিক আইন বলবৎ থাকায় সেনাবাহিনী নির্বাচনের মাঠে দায়িত্ব পালন করে।

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৯৭৩ সালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সেনাবাহিনী। সেসময় তারা পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশের মতো নিরপরাধ ব্যক্তিকে আটক করার সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯/১৩০ ধারা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু সিভিল পাওয়ার’ অনুসারে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তারা নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত শুধু  ‘শো অব ফোর্স’ হিসেবে এবং নির্বাচনের দিন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করে। এক্ষেত্রে তাদের কাউকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের সুযোগ ছিল না।

তবে, নির্বাচনে সেনা নিয়োগে ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম সংসদ নির্বাচনে হয় ভিন্ন বিধান। ওই নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে আরপিও সংশোধন করে সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে ওই নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য বাহিনীর মতো সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা পান। একই প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিন্তু বিদায়ী রকিব উদ্দিন কমিশন আরপিও সংশোধন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা থেকে আবারও সশস্ত্র বাহিনীকে বাদ দিয়ে দেয়।

বর্তমান গণপ্রতিনিধিনিত্ব আদেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা হলো আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় যারা নিয়োজিত তাদেরই কেবল বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের ক্ষমতা আছে। অর্থাৎ পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার প্রভৃতির এই ক্ষমতা আছে। তবে সেনাবাহিনীর তা নেই।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী সেনা মোতায়েন করা হলেও তা ছিলো ফৌজদারি বিধির ক্ষমতাবলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯, ১৩০ ধারা অনুসারে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য কোনও ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কমিশনার সেনাবাহিনীর সহায়তা নিতে পারেন। মানে হলো সেনাবাহিনী তখন সহায়ক শক্তি হিসেবে ছিলো।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও তারা ফৌজদারি কার্যবিধির আলোকে সেনা মোতায়েন করতে চায়। এক্ষেত্রে তারা স্ট্রাইকিং বা রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে কেন্দ্রের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনি এলাকায় টহল দেবে। কোথায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তো প্রশমনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবে। জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরও সেনা মোতায়েনে ইসির মতের সঙ্গে অনাপত্তি রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপের সময় তারা সেনা মোতায়েন ইস্যুতে ফৌজদারি কার্যবিধির ওই ১২৯-১৩১ ধারার বিধানটির কথা মনে করিয়ে দিয়ে এসেছে। ইসিতে দেওয়া লিখিত প্রস্তাবে এ বিষয়ে তারা বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনও পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যের নিয়োগ করা যাবে, যা ১৮৯৮ সালের প্রণীত ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯-১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালায় In aid civil power শিরোনামে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।’

সর্বশেষ

The app is wholly free, even if you will pay for month that is cheap -to- dues to help you to get into more...

Article writing is my favourite kind of authorship, even though I've dabbled inside the rapid story genre a small. 1 writer may tackle a...

যুক্তরাষ্ট্র ফের সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

মহামারি করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। গত একদিনে প্রাণহানিতে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে দেশটি। নতুন করে ২৬শ’ মার্কিনির মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে...

বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে ১৪ লাখ ৭৩ হাজার

বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাস আবারও ভয়ঙ্কর হতে শুরু করছে। গত একদিনেও ৮ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ ঝরেছে ভাইরাসটিতে। ফলে মৃতের সংখ্যা ১৪ লাখ ৭৩ হাজার...

বিজ্ঞানী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বহু ক্লু পাওয়া গেছে: গোয়েন্দা মন্ত্রী

ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক  বলেছেন, দেশের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরইমধ্যে বহু রকমের ক্লু পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাজধানী তেহরানের কাছে ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী...