বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০
Home টপ নিউজ রাজনীতি নয় অনৈতিক অর্জনের পেশা

রাজনীতি নয় অনৈতিক অর্জনের পেশা

- Advertisement -

প্রায় শত বছরের বেশি আগে ব্রিটিশ লেখক রবার্ট লাউস স্টিভেনসন (১৮৫০-১৮৯৪) এক সমালোচনায় লিখেছেন, ‘Politics is perhaps the only profession for which no preparation is thought necessary.’ অর্থাৎ, রাজনীতিই সম্ভবত একমাত্র পেশা, যার জন্য কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে বলে মনে করা হয় না। এখন কথাটি আজ আমাদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অন্যথায়, ২-৯-১৯৯৮ সালে দৈনিক ইনকিলাব প্রকাশিত সাবেক সম্পাদক আহামেদ হুমাউনকে ‘রাজনীতি : পেশা, নেশা, না ব্রত?’ প্রশ্ন করে সমালোচনামূলক কলমটি লিখতে হতো না। এমনকি অতি সম্প্রতি টিভি টকশোতে জনৈক অতিথিকে বলতে হতো না, ‘রাজনীতি বাঁচাও’ বলে স্লোগান ওঠার কথা। কেউ কেউ এও বলছেন, ‘রাজনীতিকদের হাতে রাজনীতি নেই।’

আমাদের (বাঙালি) সম্পর্কে যুগে যুগে বিবিধজনের বিবিধ সমালোচনা ও কটূক্তিমূলক মন্তব্য রয়েছে বিবিধ বইয়ে। রাজনীকান্ত গুপ্ত তার ‘সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস (প্রথম খণ্ড), পৃষ্ঠা-১৩৬-এ এমন একটিতে লিখেছেন, ‘বাঙালি চিরকাল রাজভক্ত, বাঙালি চিরকাল বেদনাবোধহীন এবং বাঙালি চিরকাল আপনাতে আপনি লুক্কায়িত।’ ভ্রান্ত বিশ্বাস, অদৃষ্টবাদ, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অশিক্ষা আর অসচেতনতার প্রবহমান সমাজে অনৈতিকতা আর স্বার্থগত আত্মকেন্দ্রিক কর্মতৎপরতাই স্বাভাবিক। এখন বাস্তবতায় রাজনৈতিক সুযোগে রাষ্ট্রীয় কোনো না কোনো ক্ষমতা বা তার চাটুকারিতায় সহজে বিত্ত বৈভব যদি অর্জন করা যায়, তবে সে রাজনৈতিক ধারায় ব্রতের রাজনীতি টিকে থাকা দুষ্কর।

১৯৯২ সালের ২৬ জুলাই দৈনিক ভোরের কাগজে খুবই অপ্রিয় একটি সত্য কথার শিরোনাম ছিল, ‘জনগণ সরকারকে কর দেয়, মাস্তানদের চাঁদা দেয় আর আমলাদের দেয় ঘুষ’- তোফায়েল। একই সাথে অন্য শিরোনামটি ছিল, ‘জিয়ার ১৯ দফা বাস্তবায়ন হলেই দেশের উন্নতি হবে’- শিক্ষামন্ত্রী। উন্নয়ন কোনো সরকারেরই দয়া নয়, দায়িত্ব। কিন্তু অবাধ ও নির্লজ্জ ঘুষ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সব সরকারের ব্যর্থতা কর্তব্যহীনতার শামিল। নাগরিক জীবনে পদে পদে ন্যায্য প্রাপ্তিও যদি কিনে নিতে হয়, তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় সে অবস্থার সরকার যেন হয়ে যায় ট্রেডিং কোম্পানি। আরো বলা হয়, প্রশাসনের তুল্য দক্ষতা ও যোগ্যতার রাজনৈতিক দলীয় শাসকদের সামঞ্জস্যহীনতায় প্রশাসনিক ভারসাম্য বিনষ্টে সু-শাসন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক শিরোনামে বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কুড়ি বছর ৫৪ জন খুন।’ এর মধ্যে ৩৪ জন ছাত্র ও ২০ জন বহিরাগত স্রেফ রাজনৈতিক ছাড়া নিশ্চয়ই শিক্ষার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এর কারণ ছিল না। এটা ছাড়াও ২০০৪ সালে প্রকাশিত কুররাতুল আইন-তাহমিনা ও শিশির মোড়লের Sex-workers in Bangladesh, Livelihood : at what price নামের বইটির কিছু তথ্যে রাজনীতির মান ও গতিপ্রকৃতি সহজ বোধগম্য। এর ৩৪ পৃষ্ঠার তথ্য হলো, (অনুবাদিত) ‘নির্বাচনে যৌনকর্মীদের ভোট অন্য সব ভোটের মতোই মূল্যবান। রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারাও যৌনকর্মীদের অর্জিত অর্থ জোরপূর্বক আদায় করে নানা পথে খরচ করেন।’ পৃষ্ঠা-৩৬, ‘১৯৮৫ সালে টানবাজারে অপ্রাপ্ত বয়স্কা শবমেহেরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উচ্ছেদ অভিযান বিফল হয়।

পরে ১৯৯১ সালের অক্টোবরে আরেকটি উচ্ছেদ প্রচেষ্টা ব্যাহত হয় ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তার পূর্ব বৃত্তিধারা জাতীয় পার্টি (জেপি) কর্তৃক পতিতালয় থেকে জোর করে আদায় করা অর্থের ভাগ নিয়ে বিরোধের পরিণামে।’ পৃষ্ঠা-৫৭, ‘পূর্বেকার কান্দুপট্টিতে ছাত্রনেতা তিব্বত, বানিশান্তায় শ্রমিক নেতা আইউব এবং টানবাজারে যৌনকর্মী জেসমিন হত্যা এ সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে।

রজনীকান্ত চক্রবর্তীর ‘গৌড়ের ইতিহাস, দ্বিতীয় খণ্ড (মুসলিম রাজত্ব)’ বইটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ সালে। এর ১৮৫ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘দলাদলির চোট এ দেশে খুব ছিল।’ এর প্রায় শত বছর পরে ২০১০ সালে প্রকাশিত হয় দেবেশ রায়-এর ‘বরিশালের যোগেন মণ্ডল’ নামের বই। এর ৯১৩ পৃষ্ঠায়ও বলা হয়েছে, ‘বাংলার রাজনীতিতে দল পাকানো, ঘোঁট পানো ও ছলচাতুির পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত বরাবরই।’

তাই এই শত বছরেও অপরিবর্তিত ঐতিহ্যের দলাদলির প্রমাণেই যেন আজ আমাদের প্রায় অর্ধশত রাজনৈতিক দল। গণতন্ত্রে এটা স্বীকৃত হলেও জাতীয় ও জনস্বার্থের চেয়ে শুধু দলীয় স্বার্থের প্রাধান্যতায় এটা ক্ষতিকরও বলা হয়। সর্বোপরি, নিষ্ক্রিয়, নিষ্কর্মা ও নামসর্বস্ব দলগুলো প্রতিষ্ঠার আদৌ কোনো সার্থকতা ওই দল ব্যতীত থাকার নয়। তবে লজ্জা হয়, ১৯৭১ সালে ঢাকায় আমেরিকার কূটনীতিক থাকা আর্চার কে ব্লাডের ‘The cruel birth of bangladesh’ নামের বইটির তৃতীয় পৃষ্ঠায় আমাদের নিয়ে কৌতুকটি পড়ে। তা হলো : ‘বাঙালিরা উপমহাদেশের আইরিশ বলে অভিহিত’ এবং আন্তর্জাতিক একটা কৌতুক বলা হয়, ‘তিনজন বাঙালি যদি একটা নির্জন দ্বীপে আবদ্ধ হয়, তবে তাদের প্রথম পদক্ষেপেই প্রতিষ্ঠা হয় চারটি রাজনৈতিক দল।’ (অর্থাৎ তিনজনে মিলে একটি ও তিনজনের তিনটি) তাই, রাজনীতি জনগণের জন্য হলেও বহু আগে থেকেই যেন হয়ে গেছে রাজনীতির জন্য জনগণ।

  • মো: ইখতিয়ার উদ্দিন রিবা

গণমাধ্যমকর্মী

সর্বশেষ

নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার

মালিক ও শ্রমিকপক্ষের আলোচনার পর নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা। ১১ দফা দাবিতে দেশব্যাপী পণ্যবাহী নৌযান ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন...

চ্যানেল এস টেলিভিশনের মাধবদী প্রতিনিধি সুমন পালের পিতার পরলোক গমন

মাধবদী প্রেসক্লাবের সদস্য সুমন পালের পিতা সুবোধ পাল(৬৫) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আজ ২১ অক্টোবর বুধবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোক...

কাঁচাবাজারে সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না আলু

দেশের বাজারে আলুর দাম হঠাৎ বেড়ে যাবার প্রেক্ষিতে সরকার প্রতি কেজি আলুর পাইকারী মূল্য ৩০ টাকা ও খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।...

(এলপিএল) দল কিনলেন সালমান খানের ভাই সোহেল খান

আইপিএলের সঙ্গে বলিউডের সখ্যতা পুরনো। শাহরুখ খান ও জুহি চাওলার মালিকানায় রয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের মালিকানা রয়েছে প্রীতি জিন্তার হাতে। এছাড়া সম্প্রতি...