স্বপ্নের কারিগর আতাউল করিম(ওয়াশিংটন ডিসি ) ।

মঙ্গলবার, ১৩ আগস্ট ২০১৯

স্বপ্নের কারিগর আতাউল করিম(ওয়াশিংটন ডিসি ) ।

ব্রেইন ড্রেইন (Brain Drain) বলে একটি পরিভাষা প্রচলিত আছে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। এর মানে হলো, দেশের মেধাবী ও উচ্চমানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মস্তিষ্কগুলোর উন্নততর জীবন যাপন অথবা উচ্চতর গবেষণার জন্য উন্নত দেশে পাড়ি জমানো এবং দেশে ফিরে না এসে সেখানেই রয়ে যাওয়া।

নিঃসন্দেহে স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের দেশে এমনই এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হাজারো মেধাবী মানুষ আমাদের দেশ থেকে ‘ব্রেইন ড্রেইন’ হয়ে চলে গেছেন উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে এবং এখনো যাচ্ছেন। এটি দেশ ও জাতির জন্য এক ধরনের আত্মঘাতী পরিস্থিতি, বিশেষ করে আমাদের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য। তবে কিছু কিছু ব্যক্তি আছেন, যারা ভিন্ন। তারা দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা ও ডিগ্রী লাভ করে দেশে ফিরে এসেছেন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে, অথবা দেশে না ফিরলেও সেই দেশে থেকেই স্বদেশের জন্য বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন। এদেশের এমনই এক সূর্যসন্তান হলেন পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক মোহাম্মদ আতাউল করিম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি এই বিজ্ঞানী বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন হিসেবে পরিচিত।

পরিচিতি
মোহাম্মদ আতাউল করিম (জন্ম ৪ মে, ১৯৫৩) একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথের প্রোভোস্ট এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বাবা ছিলেন চিকিৎসক এবং মা একজন গৃহিণী, স্ত্রী সেতারা একজন প্রাণরসায়নবিদ।

ড. আতাউল করিম অপটিক্যাল সিস্টেম, অপটিক্যাল কম্পিউটিং এবং প্যাটার্ন রিকগনিশনে বিশ্বের শীর্ষ ৫০ গবেষকের মাঝে অন্যতম, যারা অ্যাপ্লায়েড অপটিক্সের ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বাধিক অবদান রেখেছেন।
গবেষণা

মোহাম্মদ আতাউল করিমের বর্তমান পর্যন্ত গবেষণা আছে ৩২৭টি। কিছু সফল গবেষণার বিষয়বস্তু হলো:

*বায়োফিজিক্স
*ননলিনিয়ার ইমেজ প্রসেসিং
*ইলেক্ট্রো অপটিকাল ডিসপ্লেইস
*অপটিক্যাল কম্পিউটিং
*অপটিক্যাল ও হাইব্রিড ইলেক্ট্রো অপটিক্যাল সিস্টেমস ডিজাইন
*প্যাটার্ন/টারগেট রিকগনিশন
*শ্যাওলা থেকে জ্বালানী তৈরি
*ইনফরমেশন প্রসেসিং
*নাইট ভিশন
*ইলেকট্রো অপটিক্যাল সিস্টেম এন্ড সেন্সর
*ম্যাগলেভ ট্রেন
তার গবেষণায় অতীতে ও বর্তমানে অর্থ ব্যয় করছে অপটিক্যাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েটস, মার্কিন সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী, নাসা, ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট, ন্যাভাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি, রাইট প্যাটারসন ল্যাবরেটরি ইত্যাদি প্রথম সারির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

ম্যাগলেভ ট্রেন
আতাউল করিম বিভিন্ন রকম গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন ১৯৮৭ সাল থেকে, কিন্তু ম্যাগলেভ ট্রেনের গবেষণা তাকে সারা বিশ্বে প্রসিদ্ধ করে তোলে। আতাউল করিম ভার্জিনিয়ার নরফোকের ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতাকালে ম্যাগলেভ ট্রেন নিয়ে গবেষণাটি করেছিলেন। ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ৭ বছর ধরে এ ধরনের একটি ট্রেন তৈরির চেষ্টা করছিলেন, তবে সাফল্যের দেখা পাননি। ২০০৪ সালে এই গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ড. আতাউল করিম। এরপর তিনি মাত্র দেড় বছরে ট্রেনটির প্রযুক্তি নির্মাণে সক্ষম হন এবং গবেষণায় পরীক্ষামূলকভাবে সফল হন।

তিনি শুধু গবেষক নন, একজন ইন্সট্রাকটরও। তার গবেষণা কীভাবে প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত হবে এবং কীভাবে বাস্তব রূপ নেবে সেটির সঠিক ও উপযুক্ত নির্দেশনা তিনি নিজেই দিয়ে থাকেন। যদিও জার্মানি, চীন ও জাপানে ঘণ্টায় ১৫০ মাইলের বেশি বেগে চলমান ম্যাগলেভ ট্রেন আবিষ্কৃত হয়েছে আগেই; তবু ড. করিম যুক্তরাষ্ট্র তথা সমগ্র বিশ্বকে এমন এক ম্যাগলেভ ট্রেন উপহার দিয়েছেন, যেটি খরচের দিক থেকে খুবই সাশ্রয়ী, দৃষ্টিনন্দন এবং দ্রুতগতি সম্পন্ন। এই ধরনের ট্রেনের জন্য প্রতি মাইল ট্র‍্যাক বা লাইন প্রস্তুত করতে এর আগে গড়ে খরচ করতে হতো ১১০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু ড. আতাউল করিমের নেতৃত্বাধীন দলের আবিষ্কৃত এ ট্রেনে খরচ হবে মাত্র ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ডলার! আকর্ষণীয় এ ট্রেনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি চালু হওয়ার পর এর চাকা আর লাইনকে স্পর্শ করবে না।
আমেরিকান ম্যাগলেভ ট্রেন; source: Reporter newspaper

শিক্ষাজীবন

মোহাম্মদ আতাউল করিম ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি. এসসি. শেষ করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। অনার্স করার সময়ই সোভিয়েত ইউনিয়নের বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হন তিনি। কাগজপত্র সহ সবকিছু তৈরি থাকার পরও সেখানে আর যাওয়া হয়নি তার। অনার্স শেষ করে ফলাফল পাবার আগেই তিনি ইউনিভার্সিটি অব আলবামাতে ভর্তি হয়ে যান। ১৯৭৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে ও ১৯৭৯ সালে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এম. এসসি. করার পর ১৯৮১ সালে তিনি পিএইচডি করেন ইউনিভার্সিটি অব আলবামা থেকে।

বাংলাদেশে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল মৌলভীবাজার বড়লেখার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তারপর বড়লেখার পিসি হাই স্কুলে পড়ালেখা করেন তিনি। ১৯৬৯ সালে তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রথম শ্রেণীতে ৪র্থ স্থান অধিকার করেন। এরপর ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সিলেট এমসি কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে।

কর্মজীবন
ইউনিভার্সিটি অব আলবামা থেকে পিএইচডি করার পর আতাউল করিম প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার ইতি টানেন। শুরু করেন জীবনের নতুন এক অধ্যায়; নতুন নতুন গবেষণা, শিক্ষকতা, আর বই লেখার কাজে নিমগ্ন হন তিনি। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটির তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৮৬ সাল অবধি সেখানে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ডেইটনে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন, ১৯৯৩ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন তিনি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইলেক্ট্রো-অপটিক্স প্রোগ্রামের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত এখানে তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন ড. আতাউল করিম।

ইউনিভার্সিটি অব আরকানাসাসে বিল ক্লিনটনের সাথে ড. আতাউল করিম। এখানেই তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। বিল ক্লিনটন এই ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন; source: Star insight
১৯৯৮-২০০০ সাল পর্যন্ত টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগে, ‘০০-‘০৪ সাল পর্যন্ত সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে এবং ‘০৪-‘১৩ সাল পর্যন্ত ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগে অধ্যাপনা করেন আতাউল করিম। দীর্ঘ ৯ বছর তিনি ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্টের (গবেষণা) দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথে যোগদান করেন, বর্তমানে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভোস্ট এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে কর্মরত আছেন।

লেখালেখি
আতাউল করিম স্কুলে থাকতেই লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞান সাময়িকী‘ ও বাংলা একাডেমী বিজ্ঞান পত্রিকায় তার ত্রিশটিরও বেশি লেখা প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ‘বিবর্তন কাহিনী’ এবং ‘সাম্প্রতিক’। ‘বিবর্তন কাহিনী’তে ছিল মহাজাগতিক ও জৈবিক বিবর্তন বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনা। আর ‘সাম্প্রতিক’ লেখাটিতে ছিল বিজ্ঞানের সমসাময়িক বিষয়গুলোর উপর আলোচনা। ১৯৭৪ সালে তিনি ঠিক করলেন, বই বের করবেন। প্রথম বইয়ের পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রকাশনার জন্য বাংলা একাডেমিতে জমা দিলেন তিনি। প্রায় দুই বছর পর বাংলা একাডেমি জানালো, তার মতো কিশোর লেখকের বই বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এতে প্রচণ্ড আহত হন আতাউল, আর এই ঘটনাটি বাংলা ভাষায় তার সৃজনশীল লেখার প্রচেষ্টাকে সমূলে শেষ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে তার সমস্ত বই এবং নিবন্ধ তিনি ইংরেজিতেই লিখেছেন এবং সব বই-ই বাংলাদেশের বাইরে থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এভাবেই ঝরে গেছে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক লেখার একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র।

অধ্যাপক আতাউল করিমের প্রকাশিত প্রতিটি বই-ই গবেষণামূলক। তিনি ১৫টির বেশি বই রচনা করেছেন। এ পর্যন্ত তার রচিত ৩২৫টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ প্রকাশ পেয়েছে বিশ্বের খ্যাতনামা জার্নালসমূহে। বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে তার লেখা ও সম্পাদিত বইগুলো পাঠ্যপুস্তক হিসাবে পড়ানো হয়। তার বইগুলোর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য নাম হলো-

Digital Design: A Pragmatic Approach (১৯৮৭)
Electro-Optical Devices and Systems (১৯৯০)
Optical Computing: An Introduction (১৯৯২)
Continuous Signals and Systems with MATLAB (২০০১)
Digital Design: Basic Concepts and Principles (২০০৭)

পেটেন্ট
ড. আতাউল করিমের রয়েছে বেশ কয়েকটি আবিস্কারের পেটেন্ট। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

ফাইবার অপ্টিক কাপলিং সিস্টেম
ট্রাইনারি এসোসিয়েটিভ মেমরি
ইনার প্রডাক্ট এরেই প্রসেসর ফর রিট্রাইভাল অব স্টোরড ইমেজ
অপটিক্যাল প্যাটার্ন রিকগনিশন টেকনিক র্যাস্টার স্ক্যানার উইথ এ সিলেক্টেবল স্পট ডাইমেনশন।
পুরস্কার
মোহাম্মদ আতাউল করিম যেসব পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

এনসিআর স্টেকহোল্ডার অ্যাওয়ার্ড (১৯৮৯)
নাসা টেক ব্রিফ অ্যাওয়ার্ড (১৯৯০)
আপ এন্ড কমার্স এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড (১৯৯০)
অ্যালুমনি অ্যাওয়ার্ড ইন স্কলারশিপ (১১৯১)
আউটস্ট্যান্ডিং সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড (১৯৯৪)
আউটস্ট্যান্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড (১৯৯৮)
এছাড়াও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ‘আউটস্ট্যান্ডিং পিপল অব দি টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি’ ও ‘আমেরিকান ম্যান এ্যান্ড উইম্যান ইন সায়েন্স’ শীর্ষক তালিকাসহ আরো বিভিন্ন সম্মানজনক তালিকায়।

বাংলাদেশে তার অবদান
সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন আতাউল করিম। তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কম্পিউটার এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্যোগ নেন বাংলাদেশে। এখন এই সম্মেলনটি এ দেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী সম্মেলনে পরিণত হয়েছে। অতিথি সম্পাদকদের ৫টি দলের সহযোগিতায় তিনি প্রকাশ করেছেন ২০টি জার্নাল। এসব জার্নালে আলোচনা করা হয়েছে বাংলাদেশের যোগাযোগ, কম্পিউটিং, মাল্টিমিডিয়া, নেটওয়ার্ক এবং সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে গবেষণার বিষয়বস্তু নিয়ে। তার সম্পাদিত ‘টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জ এন্ড ডিজাইন ইস্যু ইন বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’ শীর্ষক বইটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের বিজ্ঞানচর্চার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কারণ এ বইয়ের ১৬টি অধ্যায়ে রয়েছে বাংলাদেশ সহ ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড, ভারত ও কানাডার গবেষকদের লেখা, যা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে আছে।

অধ্যাপক ড. আতাউল করিমের মতো মানুষকে এ দেশে পর্যাপ্ত গবেষণা সহায়তা দিলে হয়তো তিনি দূর পরবাসে প্রবাসী হতেন না। এ দেশের এমন অসংখ্য মেধাবী মানুষ দেশেই জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার যথাযথ সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই তারা অনন্যতার স্বাক্ষর রাখবেন সর্বত্র। ড. আতাউল করিম বাংলাদেশের গর্ব, তার অসাধারণ সৃষ্টিশীলতা যুগে যুগে প্রেরণা যোগাবে এদেশের বিজ্ঞানপ্রেমী মানুষদের।

তথ্যসূত্র:নিউইয়র্ক টাইমস এবং ভোয়া।
সার্বিক সহযোগিতায়: ইয়ামিন আহমেদ ( EEE,Stony Brook University NY)

বাংলাদেশ সময়: রাত ১:১৪ | মঙ্গলবার, ১৩ আগস্ট ২০১৯

যোগাযোগ২৪.কম |

Development by: webnewsdesign.com