বিদায়ের আগে রাত ৩টায় পরীক্ষা নিলেন ভিসি কলিমউল্লাহ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ মেয়াদের শেষ সময়ে রাত ৩টায় পরীক্ষা নিয়ে ফের বিতর্কের জন্ম দিলেন।

বুধবার রাত ৩টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্টার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ‘পলিটিক্যাল থটস’ কোর্সের পরীক্ষা নেন তিনি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে চলছে সমালোচনার ঝড়।

এর আগেও প্রতিদিন ২২ ঘণ্টা কাজ করার দাবি, দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা, একাই ২৬টি কোর্সের দায়িত্ব নেওয়া, হিন্দি গানে ড্যান্স, অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ এবং সর্বশেষ শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে উদ্ভট মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দেন তিনি।

বিভাগসূত্রে জানা যায়, জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১২তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ‘পলিটিক্যাল থটস’ কোর্সের দায়িত্ব নিয়েছিলেন নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। করোনাকালে অনলাইনে ক্লাস না নিলেও গত ৬ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত মাত্র চারটি ক্লাস নিয়েছেন তিনি।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ‘পলিটিক্যাল থটস’ (কোর্স কোড-১২০২) কোর্সের পরীক্ষা রাত ৩টায় নেওয়ার কথা জানান ভিসি কলিমউল্লাহ। এর পর অনলাইন প্লাটফরম গুগল মিটে রাত ৩টা ২০ মিনিটে ক্লাস শুরু হয়।

গভীর রাতে মাত্র পরীক্ষা নিয়ে সদ্য সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহ বিতর্ক যেন আরও বেড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমালোচনামূলক পোস্ট দিচ্ছেন। তাকে নিয়ে করছেন ট্রল। আবার অনেকেই এত রাতে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বেরোবির ট্রেজারার হাসিবুর রশীদকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে অভিনন্দন বার্তা জানানো হয়। যেখানে হেডলাইনেই ইংলিশ বাংলার মিশ্রণ দেখা যায়। এতে বলা হয় ‘বেরোবির নবনিযুক্ত উপাচার্যকে বর্তমান ভাইস চ্যান্সেললরের অভিনন্দন’ ।

অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান বলেন, এটি কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না।

বেরোবি স্টুডেন্ট রাইটস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ আহমেদ বলেন, আমরা করোনাকালে বারবার অনলাইন ক্লাস চেয়েছি। পাইনি। এখন এ সময়ে এসে অনেকেই সশরীরে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিলেও আমাদের এখানে সবেমাত্র অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে। একজন উপাচার্য মেয়াদ শেষের দিকে এসে রাত সাড়ে ৩টায় পরীক্ষা নিয়ে আবার বেরোবিকে বিতর্কিত করলেন।

এ ব্যাপারে জানতে অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Related Articles