কোভিড: বিধিনিষেধ ফের চালুর সুপারিশ

কয়েকদিন ধরে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বাড়তে থাকায় কিছু বিধিনিষেধ ফের চালুর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার কমিটির ৫৮তম সভা থেকে সরকারের কাছে এসব সুপারিশ রাখা হয়েছে।

এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের জন্য ‘কোভিড নেগেটিভ’ সনদ এবং টিকা সনদ বাধ্যতামূলক করা, জনসমাগম বর্জন, মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা এবং ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি আবার চালু করা। 

তিন মাস পর বুধবার করোনাভাইরাসে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আবার দুইশ ছাড়ায়। পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে দৈনিক শনাক্তের হারও তিন শতাংশের বেশি থাকছে দুদিন ধরে, যা টানা কয়েক সপ্তাহ এক শতাংশের নিচে ছিল।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ২০২০ সালে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্য কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ থাকা বাধ্যতামূলক করে সরকার। সংক্রমণ কমে আসায় সম্প্রতি ওই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছিল।

গত ৯ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, পূর্ণ দুই ডোজ টিকা নেওয়া থাকলে বাংলাদেশে আসতে করোনাভাইরাসের নেগেটিভ সনদ লাগবে না। কিন্তু ওই ছাড় এখন আর নিরাপদ হবে না বলে মনে করছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেসব দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন এবং উপধরনে সংক্রমণের হার বেশি, সেসব দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভাইরাস ছড়াচ্ছে বলে মনে করছে কমিটি।

এজন্য বিমান, স্থল ও নৌ বন্দরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে অধিক আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ, টিকা সনদ আবশ্যক করতে হবে। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা করতে হবে।”

জাতীয় কারিগরী পরামর্শক কমিটি বলছে, সর্দি-কাশি হচ্ছে এমন ব্যক্তিরা এখন কোভিড পরীক্ষা করাচ্ছেন না। ফলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে সংক্রমণ বাড়ছে।

করোনাভাইরাসের তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ এখনও যারা নেননি, তাদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করা, ৫ থেকে ১২ বছরের শিশুদের টিকা দিতে নাইট্যাগ এর পরামর্শ অনুসরণ করার সুপারিশ করেছে জাতীয় কমিটি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান শুরু করার পর এ বছরের ১৬ জুন পর্যন্ত ১২ কোটি ৮৯ লাখের বেশি মানুষ কোভিড টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ কোটি ৮৫ লাখ মানুষ পেয়েছেন দ্বিতীয় ডোজ। আর তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ পেয়েছেন তাদের ২ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার মানুষ।

Related Articles