হাতিলের শোরুম উদ্বোধন ভারতের গুয়াহাটিতে

 বাংলাদেশের স্বনামধন্য ও শীর্ষস্থানীয় ফার্নিচার ব্র্যান্ড হাতিল সফলতার সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করে যাচ্ছে। সোমবার (১৩ জুন) শুধুমাত্র ভারতের বাজারে হাতিলের ২৬তম শোরুমের উদ্বোধন করা হয় আসামের গুয়াহাটিতে।

বাংলাদেশ থেকে হাতিলই একমাত্র ফার্নিচার ব্র্যান্ড যেটি নিজস্ব ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে ভারতসহ অন্যান্য দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক শোরুম নিয়ে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে যাচ্ছে।  

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, চলচিত্র নির্মাতা ও সমাজকর্মী মিসেস অ্যামি বড়ুয়া।  

আরও উপস্থিত ছিলেন- হাতিল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মিজানুর রহমান।

উদ্বোধনী দিনেই বিপুল সংখ্যক ক্রেতার আগমন ঘটে শোরুমটিতে।  

ভারতের অন্যান্য শোরুম যেমন পুনে থেকে অজয় যাদব ও আইজল থেকে টোবাইস বেন্ডে এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।  

এছাড়া হাতিলের ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যাপারে আগ্রহীদের মধ্য থেকে নাগাল্যান্ডের মি. পঙ্কজ সিং, মি. সঞ্জীব শর্মা, মি. নবীন শেঠি, মনিপুরের মি. লাইফ্রাকপাম বাবুচাঁদ, মিসেস লাইফ্রাকপাম ভাগ্যবতী, হায়দারাবাদ থেকে মি. মাহমুদ রাফি শেইখ, আহমেদাবাদ থেকে মি. সাবির শেইখ এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নতুন এ শোরুমটির ম্যানেজিং পার্টনার মি. কেইশাম রঞ্জন সিং ও মি. দিপক রঞ্জন সিং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

এর আগে ব্র্যান্ডটি ভারতের মিজোরাম, মণিপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, জম্মু, কাশ্মীরসহ বিভিন্ন রাজ্যে পঁচিশটি ও ভুটানের থিম্পুতে দুটি শোরুম খুলেছিল।

এছাড়া হাতিল তাদের পণ্য কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইউরোপে রপ্তানি করে।

চার হাজার পাঁচশত বর্গফুট ডিসপ্লের এ শোরুমটি গুয়াহাটির বৃহত্তম গ্লোবাল ব্র্যান্ডের আসবাবপত্র শোরুমগুলোর মধ্যে একটি।  

হাতিলের ফ্র্যাঞ্চাইজি পার্টনার কে থ্রি হরাইজন পরিচালিত এ শোরুমে লিভিং, ডাইনিং ও বেডরুমের আসবাবপত্রের একটি বিশাল কালেকশন প্রদর্শন করা হয়েছে। এ ফ্র্যাঞ্চাইজি পার্টনারের অধীনে ইম্ফল ও চুরাচাঁদপুরে আরও দুটি শোরুম রয়েছে।  

হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম আসবাবপত্র বাজারগুলোর মধ্যে একটি এবং সেখানে প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি। স্থানীয় আসবাবপত্র প্রস্তুতকারকদের পাশাপাশি ইতালি, চীন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার ব্র্যান্ডগুলো একটি বড় মার্কেট শেয়ার নিয়ে বাজারে দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রতিযোগিতামূলক পণ্যের মূল্য বাজারে টিকে থাকতে ও মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি আমাদের আসবাবপত্র খাতকে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা দেওয়া হয়, কাঁচামালের আমদানি শুল্ক যৌক্তিক করা হয় এবং লজিস্টিক খরচ কমানো যায় তাহলে এ খাতটি চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও অন্যান্য আসবাবপত্র উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকবে। এ ধরনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে আসবাবপত্র সরবরাহ করে আসছি। গুণমান ও ফিনিশিংয়ের কারণে ক্রেতারা সবসময়ই আমাদের পণ্যগুলো পছন্দ করছে। বাজার থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় আমরা এখানেও আমাদের শোরুম সম্প্রসারিত করছি।

এছাড়া নতুন নতুন বাজার তৈরির লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশ, দুবাই, ভারত ও থাইল্যান্ডে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসবাব মেলাগুলোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছি। আমাদের যে উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে তা দিয়ে সর্বোত্তম গুণগতমান বজায় রেখে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বন্ধু প্রতিম ভারতের বাজারে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে আমরা আনন্দিত।

১৯৬৩ সালে সেলিম এইচ রহমানের বাবা মরহুম হাবিবুর রহমান কাঠের ব্যবসা শুরু করেন যার নাম এইচ এ টিম্বার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ক্রেতা সাধারণের ফার্নিচার ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা, আগ্রহ ও সময় বিবেচনায় সেলিম এইচ রহমান ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন হাতিল ফার্নিচার।  

স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক সিস্টেমসহ হাতিলের কারখানায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের ফলে উৎপাদনের গতি বেড়েছে বহুলাংশে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় হাতিলের মোট ৭২টি শোরুম রয়েছে। সূএঃ সমকাল। সম্পাদনা না/রি। স ০৬১৪/০৪

Related Articles