গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজে গতি আনতে হবে

গ্যাসে প্রিপেইড মিটার বসনোর কাজে গতি নেই। দীর্ঘ একযুগে কাজ এগিয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। মিটার না থাকায় বছরে অপচয় হাজার কোটি টাকার প্রাকৃতিক গ্যাস। তবে ২০২৪ সালের মধ্যে সব গ্রাহককে মিটার দিতে চায় কোম্পানিগুলো।

রাষ্ট্রীয় জ্বালানি-সম্পদ গ্যাসের অপচয় রোধ ও অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দূর করতে ২০১১ সালে আবাসিক পর্যায়ে প্রিপেইড মিটার চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। জাপানী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে শুরু হয় মিটার বসানোর কাজ।  

কিন্তু ১১ বছরে অগ্রগতি মাত্র ১০ শতাংশ। ৪৩ লাখ আবাসিক গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ৩ লাখ ৯৩ হাজার পেয়েছেন তিতাস ও কর্ণফুলী গ্যাসের প্রিপেইড মিটার। এক্ষেত্রে গ্রাহকের ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। 

একজন গ্রাহক বলেন, "অনেক এলাকায় মিটার হয়েছে আবার অনেক এলাকায় হয়নি। সবার মিটার হলে ভালো হত।"

আরেকজন গ্রাহক বলেন, "যতটুকু ব্যবহার করব ততটুকু বিল দিব এটাই ভালো সিস্টেম।" 

এদিকে, ৬টি গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানি ২০২৪ সালের মধ্যে সব গ্রাহককে মিটারের আওতায় আনতে চায়। এর অংশ হিসেবে তিতাস গ্যাস ১২ লাখ এবং কর্ণফুলী ও জালালবাদ গ্যাস দেড় লাখ মিটার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এরমধ্যে দ্রুত সময়ে ১ লাখ ৮০ হাজার স্মার্ট মিটার বসাবে তিতাস। 

তিতাস গ্যাসের প্রিপেইড মিটার প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ বলেন, "যত দ্রুত সম্ভব আমরা মিটার বসাবো, কারণ এতে আমাদের দেশের অনেকটা জ্বালানি সাশ্রয় হবে।"

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রিপেইড মিটার গ্যাসের অপচয় রোধ করে। কমায় অনিয়মের সুযোগও। 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম. তামিম বলেন, "আমরা যা ব্যবহার করছি তার জন্য যদি পে করি তাহলে অপচয় রোধ হবে, আবার গ্রাহকরাও লাভবান হবেন, কারণ কম ব্যবহার করে বেশি বিল দেওয়ার কোনো শঙ্কা থাকবেনা।" 

গ্যাসর প্রিপেইড মিটার বসানোর কাজে গতি না আসায় স্বার্থান্বেসী মহলকে দায়ী করছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই এলাহী চৌধুরী। লক্ষ্যপূরণে প্রয়োজনে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার কথা জানান তিনি। 

সব গ্রাহক মিটারের আওতায় এলে বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকার গ্যাস সাশ্রয় হবে মনে করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের গবেষণা। সূত্রঃ  বিইআরসি। সম্পাদনা ম\হ। বৈ ০৫১৩\১৪ 

Related Articles