গ্রিনল্যান্ড বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি কেনার ইতিহাস
- by Maria Sultana
- July 4, 2026
- 4 views
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে আগ্রহ নতুন করে আলোচনায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের ইতিহাস। ইতিহাসবিদদের মতে, গত দুই শতকে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড ক্রয় করে বর্তমান ভৌগোলিক অবস্থানে পৌঁছেছে।
মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ জে সেক্সটন বলেন, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল—অন্য কোনো শক্তির হাতে যাওয়ার আগেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রয়োজন। ট্রাম্পও একই যুক্তিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা প্রয়োজন। যদিও আগে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেও এখন তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলছেন এবং বলপ্রয়োগ করবেন না বলে জানিয়েছেন।
লুইজিয়ানা ক্রয় (১৮০৩)
১৮০৩ সালে প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন ফ্রান্সের কাছ থেকে ২০ লাখ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি আয়তনের লুইজিয়ানা ভূখণ্ড ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে কিনে নেন। বর্তমান মূল্যে যার মূল্য ৪০০ কোটিরও বেশি ডলার। এই ক্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আয়তন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং পশ্চিমমুখী সম্প্রসারণের পথ উন্মুক্ত হয়।
মেক্সিকোর স্বত্বত্যাগ (১৮৪৮)
মেক্সিকো-আমেরিকা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ের পর গুয়াদালুপ হিডালগো চুক্তির মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাডা, ইউটাহসহ বিশাল এলাকা ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল যুদ্ধের পর ‘বন্দুকের মুখে’ হওয়া এক ধরনের বিক্রি।
লা মেসিলা বা গ্যাডসডেন ক্রয় (১৮৫৩)
১৮৫৩ সালে মেক্সিকোর কাছ থেকে প্রায় ৭৬ হাজার ৯০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি ১ কোটি ডলারে কিনে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে এই অঞ্চল অ্যারিজোনা ও নিউ মেক্সিকোর অংশে পরিণত হয় এবং আন্তঃমহাদেশীয় রেলপথ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আলাস্কা ক্রয় (১৮৬৭)
রাশিয়ার কাছ থেকে ৭২ লাখ ডলারে প্রায় ১৫ লাখ ৫৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের আলাস্কা কিনে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে ‘সিওয়ার্ডের বোকামি’ বলে সমালোচনা করলেও পরে সেখানে সোনা ও বিপুল তেলভাণ্ডার আবিষ্কারের মাধ্যমে এর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।
ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ ক্রয় (১৯১৭)
ডেনমার্কের কাছ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে বর্তমান ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস কিনে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির সম্ভাব্য দখল ঠেকাতে কৌশলগত কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গবেষকদের মতে, সে সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ককে বিক্রি না করলে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিল, যা বর্তমান গ্রিনল্যান্ড ইস্যুর সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ।
ইতিহাসবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক ভূমি ক্রয় শুধু ভৌগোলিক বিস্তারই নয়, বরং সামরিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠারও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। বর্তমান গ্রিনল্যান্ড বিতর্ক সেই ইতিহাসকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। সূত্র: যুগান্তর/ স/হ/ন ০৪/০৭/২০২৬

