কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান রিজভীর
- by Maria Sultana
- June 30, 2026
- 1 views
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় আগামী বাজেটে এ খাতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের মধ্যে কৃষি কার্ড বিতরণের লক্ষ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তার মতে, গ্রামীণ অর্থায়নের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে এই কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
নিজের কৃষি ব্যাংক ও রাকাবের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গ্রামীণ কৃষিঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়। সে সময় কৃষকদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। পাশাপাশি কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, পাওয়ার টিলারের ব্যবহার, খাল খনন এবং চাল রপ্তানির মতো উদ্যোগও কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছিল।
তিনি বলেন, চলতি বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেলেও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতা বিবেচনায় এই বৃদ্ধি খুব বেশি নয়।
রিজভীর মতে, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান পাঁচ থেকে ছয় শতাংশের মধ্যে থাকলেও সেটিকে সাত থেকে আট শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত। তিনি বলেন, দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষিনির্ভর হওয়ায় এই খাতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় বাজেট ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও সেই তুলনায় কৃষি খাতের বরাদ্দ সন্তোষজনক হারে বাড়েনি। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর নজরদারিও জরুরি। অন্যথায় কৃষি খাতের প্রত্যাশিত রূপান্তর বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সম্প্রতি ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রিজভী জানান, দেশটি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন আলু আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে চলতি বছর ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আলুসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন সহজ হবে এবং অতিরিক্ত উৎপাদিত ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।
রিজভী কৃষি গবেষণায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক কৃষিবিদ বের হচ্ছেন। তাদের মেধা ও গবেষণার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাতের বিশাল সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, আলুর পাশাপাশি অন্যান্য ফল ও সবজি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের প্রযুক্তি দেশে চালু করা গেলে মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদিত কৃষিপণ্য নষ্ট হবে না। এ ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
রিজভী বলেন, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এজন্য গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারী শিল্পের কাঁচামাল দেশে পর্যাপ্ত না থাকলেও কৃষিই বাংলাদেশের প্রধান শিল্পভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে দেশ দুটি উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশেও কৃষিভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
রিজভীর ভাষ্য, কৃষি খাত দুর্বল হয়ে পড়লে খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ, গবেষণার প্রসার এবং দক্ষ বৈজ্ঞানিক জনবল তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সেমিনারে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান, দীপ্ত টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এস. এম. আকাশ, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

